আমি খুলনা জেলার সাজু,বয়স ছাব্বিশ চলে।এক বছর ধইরে মা পাগল হইছে ঘরে বউ আনতি হবে,এ্যাদ্দিন মারে বুঝোউয়ে শুনোয়য়ে রাখিছি মাথা গুজার একটা ঠাঁই কইরে যা ভাবার ভাইবো...
কৃষি পরামর্শ , দৈনন্দিন বিজ্ঞান, টিপস & ট্রিকস, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য বার্তা, পরামর্শ, পশু পালন ও খামারী, ফসলে রোগ বালাই, ফসল চাষ, ক্যারিয়ার ও জব, krishiporamorsho, Advances in Agriculture, blog
ছাদকৃষির জন্য এক ডজন টিপস ---------
ছাদ বাগানীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। টবে,ড্রামে গাছ লাগানো হয়। কেউ ফল ,কেউবা সবজির গাছ লাগান। কেউ সফল হন। কেউ সফল হন না। ছোট ছোট কিছু ভুল বাগানীরা করে থাকেন। সে কারণে যত্ন নিলেও ফল আসে না। ছাদ বাগানীদের জন্য কিছু টিপস দেয়া হলো। যা মানলে সফলতা পাওয়া সহজ হতে পারে। প্রথমেই মনে রাখতে হবে,টবে বা ড্রামে গাছ লাগালে তাকে খাবার দিতে হবে। প্রকৃতিতে বিদ্যমান গাছের মত সে খাবার সংগ্রহ করতে পারে না। রোগ বালাই হলো কিনা সেটাও বুঝে ব্যবস্থা নিতে হবে। ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে।
এক। মাটির সাথে অবশ্যই কিছু কোকোপিট মিশাবেন। গাছের গোড়া শ্যাত শ্যাতে হতে দিবেন না। শ্যাতশ্যাতে হলে অসংখ্য রোগ হবে। মাটি ভেজা থাকবে তবে শ্যাতশ্যাতে না। কেকোপিট মিশালে পানি কম দিলে হবে। কোকোপিট (নারিকেলের ছোবলার গুড়া) পানি ধরে রাখে। অতি বৃষ্টি হলে গোড়ায় পানি জমতে দেয় না। হালকা হওয়ায় ছাদে ওজনের চাপ পড়ে না। এছাড়া কোকোপিটে কিছু পুষ্টি উপাদান আছে। যা গাছের বৃদ্বিতে সহায়তা করে। কোকোপিটে চারা দ্রত গজায়,বড় হয়। মাটির চেয়ে কোকোপিটে চারা ভালো হয়।
দুই। গাছের জন্য বিরিয়ানি হলো শরিষার খৈল পচা পানি। মাটির হাড়িতে খৈল পচাতে হবে। নিন্মে পাচ দিন। সাত দিন কিংবা বা পনের দিন হলে উত্তম। অল্প পানিতে পচিয়ে তার সাথে আরো পানি মিশিয়ে দিতে হবে। এটি গাছের জন্য অত্যন্ত উপকারী। একটু গন্ধ হয়,তাই অল্প একটু গুড় দিতে পারেন। ছাদে হাড়িতে পচালে বাসায় গন্ধ আসবে না। বৃষ্টির সময় খৈল পচা পানি দিবেন না। পুকুরের নিচে থাকা পাক কাদা গাছের জন্য খুব উপকারী।
তিন। আমরা জানি, মাটিতে অসংখ্য ক্ষতিকর ছত্রাক থাকে। যা গাছকে মেরে ফেলার জন্য যথেস্ট। তাই মাটি রেডি করার সময় কিছুটা বায়োডামা সলিট দিবেন। এটি উপকারী ছত্রাক। মাটিতে ক্ষতিকারণ উপাদানগুলো মেরে ফেলে। আবার জৈব সারের কাজও করে। গাছের জন্য মাটি হবে ঝুরঝুরে,হালকা।
চার। যাই লাগান না কেন। ভালো জাতের বীজ কিনা নিশ্চিত হয়ে নিবেন। ভালো বীজে ভালো ফসল হবে। নতুবা যতই যত্ন নিন না কেন। সব পরিশ্রম বেলা শেষে জলে যাবে। বীজ থেকে নিজে চারা উত্তম। কারণ বাজার থেকে যে চারা কিনবেন। সেটার জাত ভালো হবে। সে নিশ্চয়তা কোথায়? ছত্রাক নাশক দিয়ে বীজ শোধন করে নেয়া উত্তম। পদ্বতি হলো, ছত্রাক নাশক দেয়া পানিতে কিছূটা সময় বীজ ভিজিয়ে রাখতে হবে। ম্যানসার,মেটারিল দুটি ছত্রাকনাশক।
পাচ। গাছ বেশী তো ফলন বেশী। এটি ভুল ধারনা। অল্প জায়গায় বেশী গাছ লাগানো যাবে না। গাছ পাতলা করে লাগাতে হবে। বেশী লাগালে গাছ প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে না। একটি ফলের ক্রেটে মাত্র দুটি গাছ। একটি টবে একটি গাছ। ক্রেট বা টবে পানি নিষ্কাসন এর ব্যবস্থা রাখতে হবে।
ছয়। ছাদে মাচা দেয়া সমস্যা। কারণ ঘুটি থাকে না। এ জন্য ফলের ক্রেটের চারপাশে লাঠি বেধে সহজে মাচা দেয়া যায়। লতা পাতা জাতীয় গাছ লাগানোর পাত্র একটু গভীর হলে উত্তম। গাছের জন্য সবচেয়ে বেশী ভালো জৈব সার হলো পাতা পচা সার,তারপর ভার্মি কম্পোস,তারপর গোবর সার। পাতা পচা সার সহজলভ্য নয়। দাম বেশী। কিন্ত ভার্মি কম্পোস(কেচো সার) সহজলভ্য। মাটির সঙ্গে মিনিমাম ৪০% জৈব সার দেয়া উত্তম।
সাত। নীম কীটনাশক এমন একটি জিনিস। যেটাকে ক্ষতিকারক পোকা মাকড় খুব অপছন্দ করে। এটি দিলে তারা বিরক্ত বোধ করে। গাছে বাসা বাধতে পারে না। প্রতি সাত দিনে একবার সব গাছের পাতায় নিম কীটনাশক স্প্রে করতে হবে। মাসে একবার ইপসম সল্ট স্পে করে দেয়া উত্তম। অণুরুপভাবে মাসে একবার পানির সঙ্গে হাইডোজেন পার অক্সাইড মিশিয়ে স্পে করা ভালো।
xxxxxxxxx
আট। ডাটা,পুইশাক, লালশাক,ধনেপাতা এসব লাগাতে পারেন। মাত্র ২৫ দিনে খেতে পারবেন। লালশাক লাগালে নেট দিয়ে ঘিরে দিবেন। শাকপাতা লাগালে দ্রত আউটপুট পাবেন। যা আপনাকে প্রেরনা দিবে। পুইশাক গাছের পাতায় দাগ হলে পাতা কেটে দিন। অথবা ছত্রাক নাশক স্প্রে করেন। অথবা গাছ উঠিয়ে আবার লাগান। ইউরিয়া সার দিলে পুইশাক দ্রত বাড়বে। শষা গাছের বৃদ্বির জন্য ডিএপি সার দিতে ভালো হবে। শসা গাছে ছাড়া ছাড়া ছত্রাক নাশক স্পে করতে হয়। খুব রোদ,গাছের গোড়ায় মালচিং করে দিয়ে উত্তম ফল মিলবে। মালচিং হলো গাছের গোড়ায় বিশেষ পলিথিন কিংবা শুকনো পাতা,খড় দিয়ে ঢেকে দেয়া।
নয়। ফুল আসার পরে প্রানোফিক্স অথবা মিরাকুরান গাছের পাতায় শেষ বিকালে স্পে করবেন। বাসায় দুইটি গ্রুপের ছত্রাক নাশক রাখা ভালো। যেমন ম্যানসার,মেটারিল। ১৫ দিনে একবার স্প্রে করবেন। এগরোমিন্ড গোল্ড অনুখাদ্য বা অন্য কোন অনুখাদ্য বাসায় রাখতে হবে। মাসে নিন্মে একবার স্পে করে দিবেন।
অতিরিক্ত গরম,বৃষ্টি,খাদ্যের অভাব, গাছ রোগাক্রান্ত,আবহাওয়া দ্রত আপডাউন করা ইত্যাদি কারণে ফুল ঝরে পড়তে পারে। আবার পরাগায়ন না হলে ঝরে পড়তে পারে। এ জন্য হাত পরাগায়ন করতে হবে। পুরুষ ফুলের পরাগদন্ড নারী ফুলে গর্ভে ঘষে দিতে হবে।
দশ। ছাদ বাগানে গাছ মারা যাবার অন্যতম কারণ পানি বেশি বা কম দেয়া। যতটুকু লাগে ঠিক ততটুকু পানি দিতে হবে। কোন গাছের কি চাহিদা,রোগ একটু স্টাডি করলে সহজে সফল হতে পারবেন।
এগার। গাছের পাতার নিচে খেয়াল করবেন। বেগুন গাছের পোকা মারার জন্য সেক্স ফোরেমান ফাদ লাগাবেন। ডগা ছিদ্র বা ফল ছিদ্র করলে সাইপারমেত্রিন গ্রুপের কীটনাশক দিতে হবে। একটি বেগুন গাছ অনেক দিন ফল দেয়। ঢেড়স গাছ বেশী রোদ পড়ে এমন জায়গায় লাগাবেন।
বেগুন,ঢেড়স,লাল শাক,পুইশাক,ধনেপাতা,ডাটা শাক এসব গাছের খুব যত্ন করতে হয় না।
বার। রসুন আর লবঙ্গ বেটে সে পানি গাছে স্পে করলে পোকা কম আসবে। মরিচ গাছে নেপথলিন বেধে দিন। পোকা কম আসবে। পাতা কুকড়ালে ভার্মিটেক কিংবা এবোম কীটনাশক দিন। কুকড়ানো পাতা ফেলে দিন। মরিচ গাছে দশ দিন পর পর ডায়মেথট গ্রুপের (যেমন টাফগর) কীটনাশক দিলে উপকার হবে।
সব কিছু করছেন। কাজ হচ্ছে না। গাছের জায়গা বদল করেন। উঠিয়ে অনত্র লাগান।
শফিক,মিরপুর ১২,ঢাকা।
লেখক: দীর্ঘদিন যাবৎ ছাদ কৃষির সংঙ্গে জড়িত।
ছাদকৃষি।
টিপস।
এক। মাটির সাথে অবশ্যই কিছু কোকোপিট মিশাবেন।গাছের গোড়া শ্যাত শ্যাতে হতে দিবেন না।
দুই। গাছের জন্য বিরিয়ানি হলো শরিষার খইল পচা পানি। সাত দিন বা পনের দিনে একবার দিন।
তিন।মাটি রেডি করার সময় কিছুটা বায়োডামা সলিট দিবেন।
চার। যাই লাগান। ভালো জাতের বীজ কিনা সিওর হয়ে নিবেন। নতুবা সব পরিশ্রম বেলা শেষে জলে যাবে।
পাচ। গাছ পাতলা করে লাগাবেন। একটি ফলের ক্রেটে মাত্র দুটি গাছ। ক্রেটে পানি নিষ্কাসন এর ব্যবস্থা রাখবেন।
ছয়।ফলের ক্রেটের চারপাশে লাঠি বেধে সহজে মাচা দেয়া যায়।
সাত। প্রতি সাত দিনে একবার সব গাছের পাতায় নিম কীটনাশক স্প্রে করবেন।
আট। ডাটা,পুইশাক, লালশাক,ধনেপাতা এসব লাগাবেন। ২৫ দিনে খেতে পারবেন। লালশাক লাগালে নেট দিবেন। ছবি দেখুন। শাকপাতা লাগালে দ্রত আউটপুট পাবেন। যা আপনাকে প্রেরনা দিবে। পুইশাক গাছের পাতায় দাগ হলে পাতা কেটে দিন।অথবা ছত্রাক নাশক স্প্রে করেন।অথবা গাছ উঠিয়ে আবার লাগান।
নয়। ফুল আসার পরে প্রানোফিক্স অথবা মিরাকুরান গাছের পাতায় শেষ বিকালে স্পে করবেন। বাসায় দুইটি গ্রুপের ছত্রাক নাশক রাখবেন। ১৫ দিনে একবার স্প্রে করবেন। এগরোমিন্ড গোল্ড অনুখাদ্য বা অন্য কোন অনুখাদ্য বাসায় রাখবেন। মাঝে মাঝে স্প্রে করে দিবেন।
দশ। পানি বেশি বা কম দিবেন না। যতটুকু লাগে ঠিক ততটুকু দিবেন।
এগার। গাছের পাতার নিচে খেয়াল করবেন।বেগুন গাছের পোকা মারার জন্য সেক্স ফোরেমান ফাদ লাগাবেন।
বার। রসুন আর লবঙ্গ বেটে সে পানি স্প্রে করুন।
তের। গাছের নিচের দিকের বুড়ো হলুদ পাতা ফেলে দিবেন। মরিচ গাছে দশ দিন পর পর ডায়মেথট গ্রুপের কীটনাশক দিবেন।
তের। প্রতিদিন নিয়ম করে গাছ কে কিছুটা সময় দিবেন। কোন গাছে কেন সফল হচ্ছেন না সেটা নিজেই খুজে বের করুন।
প্রচুর ইউটিউব ভিডিও দেখুন। বিশেষ করে রাজ গাডেনস,ফারমিং এডভাইজার অনাথ হালদার এর ভিডিওগুলো। এরা খুব সহজ ভাষায় প্রাকটিক্যাল কাজ করে দেখান।
ধন্যবাদ। আপনার জন্য শুভকামনা।
শফিক,মিরপুর ১২,ঢাকা
শসা,তরমুজ চাষ অসময়ে ?
শসা চাষের উপযুক্ত সময় হচ্ছে ফেব্রুয়ারি - মার্চ। শীতের পর পরই কৃষকরা জমি প্রস্তুত করতে থাকে, বিশেষ করে রমজান মাসকে কেন্দ্র করে তারা দেশি শসা, করলা, তরমুজ ইত্যাদি বানিজ্যিক চাষ শুরু করে। এসময়ে ভালো দামও পাওয়া যায়। যেমন বর্তমান বাজারে শসা ৬০ টাকা কেজি। আবার কপাল মন্দ থাকলে ঠিক উল্টোটা হয়। তবে অসময়ে যেকোনো সবজির দাম থাকে আকাশ ছোয়া, যদি প্রাকৃতিক দূর্যোগে না পরে। অসময়ে এক কেজি শসার দাম থাকে ৯০-১০০ টাকা, তরমুজ ৮০ -১২০ টাকা। আরো বেশিও থাকে।
জাত- অসময়ে চাষ করার ক্ষেত্রে উচ্চ ফলনশীল বারোমাসি বীজ প্রয়োজন।
জমি - চাষের জমিতে যেন বৃষ্টির পানি না জমে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
এবং মাচা তৈরি করতে হবে।
দেশি নাকি থাই বীজ?
আমাদের দেশীয় বারোমাসি বীজগুলোর চেয়ে থাই বীজে তুলনামূলক ভালো জার্মিনেশন হয় এবং ভালো ফলনও হয়।
যেমন এ বছর রমজানকে কেন্দ্র করে আমার কাকা দেশি শসা চাষ করে,ফলন মাশাআল্লাহ মোটামুটি ভালো হয়েছে। তবে জার্মিনেশন ছিলো খুবই খারাপ৷ চারা হওয়ার পরও নষ্ট হয়েছে।
অন্যদিকে আমার থাই বীজ ক্রেতার ৯৮% জার্মিনেশন হয়েছে৷ চারাও মাশাআল্লাহ সুস্থ।
তাই আমি সাজেস্ট করবো দাম একটু বেশি হলেও ভালো বীজ ক্রয় করুন।
লেখক-ইউছুপ আহমাদ
কৃষি পরামর্শ গ্রুপ
সজিনা গাছে প্রুনিং করলে ফলন ৩ গুন বেশি হয়।
(ইন্ডিয়ান বারোমাসি সজিনা বীজ লাগলে নিতে পারেন) জাতঃ ODC3 Indian
প্রুনিং না করলে সজিনা গাছের ডালপালা অনেক কম হয়।
কিভাবে প্রুনিং করবেন?
১. বারোমাসি সজিনা গাছের বয়স যখন ৩ মাস হবে তখন সজিনা গাছের আগা কেটে দিন, এতে গাছ উপরের দিকে বৃদ্ধি হতে না পেরে ৩-৪ টি ডাল দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।
২. ২ মাস পর আবার সেই ডালগুলোর আগা কেটে দিন, এতে গাছে অনেক ডালপালা হবে।
ভালো ফলাফলের জন্য আবার তৃতীয় ধাপে ডালের আাগা কেটে দিতে পারেন। এবং এভাবে যদি কোনো ডাল অতিরিক্ত লম্বা হয়ে যায় তাহলে সেক্ষেত্রে ডালের আগা কেটে দিতে পারেন।
প্রুনিং এর সুবিধা বা উদ্দেশ্য (Objectives of Pruning)
১. প্রুনিং এর প্রধান উদ্দেশ্য হল গাছের অঙ্গজ বৃদ্ধি ও ফল ধারণের মধ্যে সাম্যতা আনয়ন করা।
২. ফল উৎপাদন শাখা প্রশাখা (fruiting branches) সংখ্যা বৃদ্ধি করা।
৩. গাছের উৎপাদন ক্ষমতা এবং ফলের গুণগত মান বৃদ্ধি করা।
৪. অনুৎপাদনশীল গাছে ফল ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নতুন নতুন ডালপালা গজানো (Rejuvenzation)।
৫. গাছের কোন ক্ষতস্থানে সারানো।
৬. পরবর্তী বছরগুলোতে ফুল-কুঁড়ির বিকাশ বৃদ্ধির নিশ্চয়তা প্রদান করা।
৭. বেশি সংখ্যক ফল ধারণের নিশ্চয়তা প্রদান করা।
ঢ়) ফলের গুণগত মান এবং বর্ণের আকার উন্নত করা।
ধন্যবাদ link
কৃষি পরামর্শ
ইদানীং বেশ গরম পড়ায় পুকুরের পানির তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে মাছের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চাষী। তাই, এ অবস্থান থেকে উত্তরণের উপায় সম্পর্কে কিছু তথ্য আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।
পুকুরের পানির তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে কি করণীয়ঃ
১. কচুরিপানা বা টোপাপানা ব্যবহার ঃ
কচুরিপানা বা টোপাপানা জীবানুমুক্ত করে পুকুরে ৫-১০% জায়গা জুড়ে বাঁশ দিয়ে বেঁধে বা বেষ্টনীর করে দিলে গরমের সময় মাছ আশ্রয় স্থল হিসেবে ব্যবহার করবে। কচুরীপানা পুকুরের মাঝখানে বা কিনারে সাপোর্ট দিয়ে সীমানা নির্দিষ্ট করে রাখতে পারেন ।
২.কৃত্রিমভাবে ছায়া বা সেড তৈরী করে তাপের স্তরীয় বিন্যাস প্রতিরোধ করে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
৩.পুকুরের গভীরতা পর্যাপ্ত পরিমাণে বাড়িয়ে অথবা কম গভীর পুকুরে পানি প্রবেশ করার মাধ্যমে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
(পানি প্রবেশ/সরবরাহ করা যেতে পারে ভূগর্ভস্থ পানি থেকে বা নদী নালা খাল বা অন্য কোন পুকুর থেকে )।
(বলে রাখা ভালো ঃ অগভীর পুকুরের পানির তাপমাত্রা খুব সহজেই বৃদ্ধি পায় এবং এতে পানির অক্সিজেন ধারণ ক্ষমতা কমে যায় )।
৪. এ সময় মাছের খাবার অর্ধেক কমিয়ে আনলে ভাল হবে।
মাছের খাবারের সাথে ভিটামিন সি মিশিয়ে মাছকে খাওয়াতে হবে।
৫. রোদের সময় হররা বা চেইন ড্রাগিং করে পুকুরের তলার গ্যাস বের করে দিতে হবে।
৬. ভোরে / খুব সকালে অথবা সন্ধ্যায় /রাতের সময় চুন ও লবন পরিমাণ মতো (শতকে ১০০-২০০ গ্রাম) প্রয়োগ করা যেতে পারে।
৭. অতিরিক্ত তাপমাত্রায় অক্সিজেন প্লোবলেম হলে পানি সরবরাহ বা রিভার্স সিস্টেম, অস্থায়ী ভাবে অক্সিজেন ট্যাবলেট বা স্থায়ী সমাধান হিসেবে এয়ারেটর ব্যবহার করতে হবে।
Mahtabuz Zaman Rafsun
FDI,Chandpur (6th batch)
IIAST,Rangpur (4 th batch)
Studying : Fisheries Department
ব্রয়লার মুরগি এমন একটা আবিষ্কার, আসলেই যার পরিপূরক, সমতুল্য বা বিকল্প কোন জাত আবিষ্কার হয় নাই। এর প্রসারের সাথে সাথেই গরিবের পক্ষে যখন তখন মাংস কেনা সম্ভব হচ্ছে, যদিও অনেকেই ব্রয়লার মাংস পছন্দ করে না, তবে এটা সম্ভব হয়েছে শুধু ব্য়লারের কল্যাণেই। ব্রয়লার যথেষ্ট সুস্বাদুও, কিন্তুু আমাদের অনেকেই নাক ছিটকায়। এর কারণ, এর বেশি সহজলভ্যতা।
বড়লোকের মাঝে একটা সাধারণ tendency বা ঝোক আছে, তাহল যদিও কোন পণ্য গুণে মানে একই হয়, কিন্তুু যদি জিনিসটার দাম অন্য জিনিসের তুলনায় কম হয়, তাহলে তারা কিনবে না। তাদের আসলে গুণের দরকার নেই, তাদের দরকার পণ্যটির দাম। যে পণ্যের দাম বেশি এবং ব্র্যাণ্ড আছে তারা সেটাই কিনবে। আর এজন্য কোম্পানিগুলো কোন জিনিসের দাম কম নির্ধারণ করতে চায় না। ওদের কারণেই সোয়াবিন আর লবণের দাম বেশি। যেমন কোন কোম্পানি যদি অন্য কোম্পানির চেয়ে লবণ বা তেলের দাম কেজিতে ১০ টাকা নির্ধারণ করে, তারা বেশি দামেরটাই কিনবে। কমদামীটা কিনবে না। তদ্রুপ, খামারিদের মাঝেও একটা কমন প্রবণতা আছে, তাহল যে ফিডের দাম ২০০০ এর নিচে, তারা মনে করে এই ফিড ভাল না। এটা খাওয়ালে মুরগি বাড়বে না। কোম্পানি গুলো তাদেরকে এমন এক টোটকা দিয়ে দিয়েছে যে তারা নারিশ আর এসিআই এর ফিডই কিনবে। তেমনি যখন বাচ্চা কিনবে, তারা খুজবে কাজী, নারিশ অমুক তমুক। কিন্তুু একটা জিনিস বুঝে আসে না, নারিশ কাজী যে মেশিনে বাচ্চা ফোটাই, একই মেশিন দিয়ে অন্যান্য কোম্পানিও বাচ্চা ফোটায়। তাহলে সমস্যাটা কোথায়?? আবার কোন বৃহৎ কোম্পানি যখন খাবার বানায়, সকল উপাদান এবং রিমিক্স বা মাল্টিভিটামিনগুলো সমানভাবেই দেওয়ার চেষ্টা করে। কারণ ঔ খাবারটা আপনি আর আমি বানাচ্ছি না। বানাচ্ছে কো ভেটেনারি অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শেই। আর খাদ্য এবং ব্রয়লার বাচ্চার দাম খামারিদের এই প্রবণতার কারণেই বাড়ছে। কারন কোন নতুন কোম্পানি যদি খাদ্যের দাম ২০০০ এর নিচে নির্ধারণ করে আপনারাই বলবেন খাদ্যের মান ভালো না।
এই ব্যাপারটা সবকিছুর ক্ষেত্রেই। যে সয়াবিন তেল এখনও হয়ত ৮০ টাকায় পাওয়া যায়, সেখানে আপনি আমি মানের দোহাই দিয়ে ১৩০-৪০ টাকারটা কিনছি। একই তেল যখন খোলা থাকে তখন দাম ৮০ টাকা, গায়ে যখন সে ব্র্যান্ডের পোশাক পড়ে তার দাম বেড়ে হয়ে যায় ১২০-৩০ টাকা।
সবসময় এত স্বাস্থ্য সচেতন হলে চলে না। একটু কম দামেরটা খান। যতই চাপাচাপি আর লাফালাফি করি ৬০-৭০ এর ওপর তো এ যুগে কেউ টিকবে না। তো এত ভাল খেয়ে কি হবে?? এসব করে তো আমরা তীর, ACI, প্রাণ এগুলোর মান বাড়িয়ে দিয়েছি। নতুন উদ্যোক্তাদের সুযোগ দিন। ব্র্যান্ড ছাড়ুন। ২০ টাকা কেজি লবণ, আর খোলা সোয়াবিন খান। বসুন্ধরায় মার্কেট না করে, লোকাল বাজারে করেন।
অনেকদিন ধরেই আমার একটা কৌতুহল, অন্য বাচ্চা যেমন ফাওমি, সোনালির দাম যেখানে ২০-৩০ এর মধ্যে থাকে, সেখানে ব্রয়লার এর দাম ৫০-৬০ টাকা কি করে হয়?? মানলাম ব্য়লার মুরগি ডিম কম দেয়, খাবার বেশি খায়, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেক বেশি। তাই বলে একটা বাচ্চার দাম ৫০-৬০ টাকা কিভাবে হয়, কেউ ব্যাপারটা একটু ব্যাখ্যা করবেন।
আমাদের খামারিদের অতিলোভের কারণেই, রাতারাতি বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন থেকেই মনে হয় বাচ্চার দাম এত বেশি। না জেনে না বুঝে না শিখে ঋণ করে কেউ ব্রয়লারের নাম মুখেও আনবেন না। রাতারাতি বড়লোক হওয়া যায় না। ২০০০, ৩০০০, ৫০০০ পালার দরকার নাই। নিজের টাকায় ৫০০-১০০০ দিয়ে শুরু করেন। যত লাভ তত ক্ষতি। তবে বেশি বাচ্চা পালনের সুবিধাও আছে, তবে সবার জন্য না। অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা। আপাতত ১০০০ এর ওপর কেউ বাচ্চা পালবেন না। দেখবেন বাচ্চার দাম কমবে। চাহিদা কম থাকলে জিনিসের দামও কমে।
পোস্টটি মাছ চাষের নতুন উদ্যোক্তা এবং মাছ চাষী ভাইদের কাজে লাগবে কেননা তারা প্রতিবন্ধকতাগুলো র বিকল্পটা তৈরির পাশাপাশি সতর্ক থেকে অভিজ্ঞদের হেল্প নিয়ে দেশের অন্যতম মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।
বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের প্রতিবন্ধকতাঃ
১.সবল ও কোয়ালিটি সম্পন্ন পোনা না চেনা বা না কেনাঃ
সস্তা জিনিসের বেশি আমাদের ঝোঁক হওয়ায় আমরা পোনা সবল ও কোয়ালিটি সম্পন্ন কিনা তা বিবেচনা না করা এবং অনেক সময় অনলাইন থেকে তাদের রোমাঞ্চকর বিজ্ঞাপনে আমরা পোনা কিনে থাকি। অনেকসময় পোনা কিনতে গিয়ে দামে ঠকছি, পরিমাণে ঠকছি এবং গুণেও ঠকছি। অনভিজ্ঞ ও নতুন চাষীরা এরকম প্রতারণার সম্মুখীন বেশী হচ্ছে।
২. পানির মান পরীক্ষা না করাঃ
পানিতে iron, arsenic, Salinity বা হেভী মেটাল কি পরিমাণ আছে বা আছে কিনা সেটা না জেনে আমরা চাষ করে ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারি। আবার ওয়াটার প্রিপারেশন আমরা ভুল ভাবে করে থাকি।
৩।নিম্ন কোয়ালিটি সম্পন্ন খাবার ও খাবারে দাম অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধিঃ
অনেক কোম্পানির ফিডের বস্তায় protein লেখা থাকে ৩০ কিন্তু বাস্তবে lab এ পাওয়া যায় 18-20.
আর আমরা অনেকে খাবার সংরক্ষণ সঠিকভাবে না করায় খাবারের গুনাগুণ ক্ষুন্ন হচ্ছে
আর বায়োফ্লকে যেই উৎপাদন খরচ তার সাথে বাজারমূল্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে মিলানো যায় না।
৪।পানির parameters ও পানির গুনাবলী সম্পর্কে ধারণা না থাকাঃ
Waterb temperature, P^h, Dissolved O^2,Alkalinity, Hardness, TDS,NH3, Iron,dept,Salinity সম্পর্কে ধারণা না থাকা
বিশেষত, ইসরাইলের বিজ্ঞানী Professor yoram avnimelech তার ওখানে tds রেখেছে 14000-18000 mg/L. কিন্তু বাংলাদেশের আবহাওয়ার জন্য tds কত উপযুক্ত সেটা বিবেচনা না করা। তারপর শিং মাছ সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের tds, salinity কত থাকা উচিত বা কত এর বেশি হলে সহ্য করতে পারে না বা গ্রোথ স্লো হয়ে যায় সেটা সম্পর্কে ধারণা না রাখা
এছাড়া প্লোবায়োটিক সম্পর্কেও তাদের ভালো ধারণা না থাকায় বা অসাধুদের অনেকে প্লোবায়োটিক তৈরিতে বালু /sand মিশিয়ে ক্রোয়ালিটি কমিয়ে এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়া কম দিয়ে প্রতারণা করছে
৫।আড়তদার ও মধ্যস্থতা ভোগীদের (সিন্ডিকেট) এর দৌরাত্ন্য ঃ
চাষীদের দাম কম পাওয়ার পিছনে এরাও একটা অন্যতম কারণ।কেননা এরা চাষীদের কাছ থাকে সব মাছ পাইকারি দামে ক্রয় করে বাজারে খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে উচ্চ দামে মাছ বিক্রি করে করে থাকে। তাছাড়া আড়তদার এর কাছে মাছ বিক্রি করলে এরা মণে ৪-৫ কেজি মাছ বেশী রাখে চাষীদের কাছ থেকে।
ফলে চাষীরা ঠকছে, ভোক্তা ও ঠকছে
কিন্তু ৩ য় পক্ষ লাভবান হচ্ছে
৬. মাছের বাজারমূল্য বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কম থাকাঃ
মাছের দেশে মাছ আমদানি করায় এবং কোভিড পরিস্থিতিতে রপ্তানি বন্ধ থাকায় চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে
উল্লেখ্য, আমদানিকৃত মাছের মধ্যে অনেক মাছে কয়েক বছর আগেও সীসা,লেড, ক্রোমিয়াম ও পারদ পাওয়া যেত যা স্বাস্থের পক্ষে বেশ ক্ষতিকর (জানি না বর্তমানে কেমন পাওয়া যাচ্ছে নাকি ) । আর বিক্রেতারা দেশী মাছের চাহিদা বেশী থাকায় বিদেশি আমদানি মাছকে দেশী বলে বিক্রি করছে।
৭.সঠিক রোগের ট্রিটমেন্ট সম্পর্কে ধারণা না থাকাঃ অনেক চাষি অনলাইন বা অফলাইন থেকে রোগের ট্রিটমেন্ট কারেক্ট করে তারা যে যেভাবে ট্রিটমেন্ট বলছে সেভাবে দিচ্ছে।
৮. মৎস্য ক্ষেত্রে দক্ষ জনবলের অভাবঃ এ খাতে আমরা হাতে কলমে কাজ করা টেকনিক্যাল জ্ঞানসম্পন্ন ফিসারিজ ডিপ্লোমা পড়ুয়াদের তেমন কাজে লাগাতে পারছি না বা সুযোগ দিচ্ছি না - যারা কিনা ৪ বছর ফিসারিজ ডিপ্লোমা (৫২ সাবজেক্ট) পড়ে বিভিন্ন জায়গায় ইন্টারনি ও প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ হয়ে আসে। ফলে পরোক্ষভাবে ফিসারিজ সেক্টর তার সুযোগ হারানোর পাশাপাশি চাষীরা ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
৯.প্রতিরোধ মুলক ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা না থাকা বা কম থাকা
১০. অসাধু পোনা ও পোডাক্ট ব্যবসায়ীঃ
ওদের রোমাঞ্চকর বিজ্ঞাপন, ওভার কনফিডেন্স বা নতুন উদ্যোক্তা ও চাষীদের অতি উৎসাহ দিয়ে তাদের বিভিন্ন পোনা, পোডাক্ট, parameter, ফিড,মেশিনারি প্রভৃতি বিক্রি করে থাকে যেগুলো ভাল ও গুণাগুনসম্পন্ন পণ্য নয়।
১১. ট্রেইনারদের প্রতি নেতিবাচকতাঃ
কিছু অসাধু ট্রেইনার যারা ট্রেইনারের নামে পণ্য বিক্রি করছে তাদের কারণে প্রকৃত ট্রেইনারদের আমরা খুজে নিতে ব্যর্থ হচ্ছি।
তবে আমার কাছে মনে হয়, ভালো ট্রেইনাদের খুজে তাদের কাছে প্রশিক্ষণ নেয়া উচিত কেননা আমরা লাখ লাখ টাকার মাছ চাষ করবো কিন্তু ৩-৪ হাজার টাকার কারণে প্রশিক্ষণ নিবো না সেটা হয় না। কেননা,উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এর মাধ্যমে চাষীরা অনেক বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারি।
বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের প্রতিবন্ধকতাগুলো মাথায় রেখে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ভাইদের ও স্যারদের হেল্প নিয়ে আমরা যাতে চাষের প্রসার ঘটিয়ে মাছের উৎপাদন বাড়াতে পারি - সেদিকে দৃষ্টিপাত রেখে আমাদেরকে এ সেক্টর কে আরো কয়েকধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তাহলে ইনশাল্লাহ সফলতা আসবে।
মাহতাবুজ জামান রাফছান
ফিসারিজ ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউট, ৬ষ্ঠ ব্যাচ
আই. আই. এ. এস. টি, রংপুর (ফিসারিজ ডিপার্টমেন্ট- অধ্যয়নরত)
পড়াশুনা কৃষি নিয়েই।
অনার্স করেছি নোয়াখালী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।মাস্টার্স করতেছি সীড টেকনোলজি বিষয়ে,শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়,ঢাকা থেকে।পড়াশুনা কৃষির উপর হলেও কৃষি নিয়ে বড় ধরনের কাজ এটাই।পড়াশুনার পাশাপাশি ছাদ বাগান বা কৃষি প্রডাক্ট নিয়ে অনলাইন ভিত্তিক বিজনেস & টুকটাক কৃষি বিষয়ক পরামর্শ দিয়ে আসতেছি প্রায় ২ বছর সময় ধরে "Seed Bazar-বীজ বাজার " ফেইসবুক পেজের মাধ্যমে।ব্যাবসার পাশাপাশি ছাদ বাগানে বা অল্প পরিসরে কাজ করেছি এতো দিন ধরে।লক ডাউন বা বিভিন্ন কারনে এলাকায় আছি।তাই অলস এই সময়টা কাজে লাগাতে হঠাৎ করে মাঠে কিছু করার ইচ্ছা হলো।তাই প্রথমবারের মতো পরিক্ষামুলক ১২-১৫ শতাংশ জমিতে বিদেশি ফল রকমেলন & সাম্মাম বা মেলন, শসা,করলা,বেগুন, মরিচ,বরবটি ইত্যাদি অল্প অল্প করে চাষ শুরু করেছিলাম ১.৫ মাস আগে আধুনিক পদ্ধতি & মালচিং পেপার পদ্ধতিতে।
আজ সফলতা স্বরূপ ২১০ কেজি শসা সংগ্রহ করলাম।স্থানীয় বাজারে কেজি ১৮/- পাইকারি।
বাকি ফল & সবজি থেকেও ভালো কিছু আশা করছি।
মাঠে কাজ করে এটাই উপলব্ধি করলাম যে মাঠে কাজ করা খুব সহজ কিছু না।এতো পরিশ্রম করেও যদি কৃষক তাদের সঠিক মূল্যায়ন বা ফসলের ন্যায্য মুল্য না পায় তাহলে কৃষকের জন্য তা কতোটা কষ্টের হতে পারে এখন বুঝতেছি।আরামে বসে বসে যারা কৃষককের উৎপাদিত ফসল ভক্ষণ করতেছি তারা কখনোই এই সব ফসল উৎপাদনকারী কৃষকদের কষ্টের গল্প গুলো জানতে পারব না।
পরিশেষে কৃষক যেন তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মুল্য পায় এটাই প্রত্যাশা..........
ফারুক আহমেদFb link
সিইও
Seed Bazar-বীজ বাজার
মাস্টার্স চলমান
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
বিষয়ঃ সীড টেকনোলজি
উলিপুর, কুড়িগ্রাম
কৃষি পরামর্শ গ্রুপের পোস্ট
আশা করি কেউ হাসবেন না। এটা আমার একটা কাল্পনিক চিন্তাধারা। অনেকটা পাগলের প্রলাপ মনে হতে পারে, কিন্তু অসম্ভব কিছু নয়। আর এডমিনকে পোস্টটি এপ্রোভ করার জন্য ধন্যবাদ দিয়ে বড় করতে চাই না।
আদিকাল থেকে আজ পর্যন্ত মানবজাতির ইতিহাস হচ্ছে জীবন সংগ্রাম তথা টিকে থাকার ইতিহাস। আর এই জীবন সংগ্রামের মূলে রয়েছে ক্ষুধাকে জয় করার বা খাদ্যের যোগানের নিরন্তর চেষ্টা। কিন্তু আজও পৃথিবীর অনেক মানুষ পেট ভরে একটু ভাল খাবার, মাথা গোজার একটু ঠায়, দুটুকরো কাপড়, ভাল একটু চিকিৎসা পায় না। আর এই লক্ষকে সামনে রেখেই আমাদের পথ চলা হোক, সুখে থাকুক পৃথিবীর সকল মানুষ। আর কৃষিকে আবর্তন করেই হোক আমাদের সকল কর্মকাণ্ড। একমাত্র কৃষিই পারে বিশ্বকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে।
তাই এমন একটি সিস্টেম চালু করে যেতে চাই, যে সিস্টেমের আওতায় কৃষক এবং উৎপাদক তার ন্যায্য মূল্য পাবে, কৃষি তথা কৃষকের উন্নয়ন হবে। আর এই সিস্টেমের প্রধান উদ্দেশ্য হল উৎপাদক এবং সাধারণ ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণ করা, যাতে দুজনেই উপকৃত হয়। সাধারণ মানুষের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় লাগামহীন ট্যাক্স বা শুল্ক, সরকারি অপচয়, ঘুষ, দুর্নীতি আর অনিয়ম, যার ফল জীবনযাত্রার ব্যয় তথা আকাশচুম্বী দ্রব্যের দাম। সরকারি ব্যয় তথা দুর্নীতি ও অপচয় বৃদ্ধির ফলেই আজ আমাদের পকেটে টাকা থাকে না। যে পাওয়ার টিলার চায়না থেকে কেনা হয় ৫০-৬০ হাজার দিয়ে, বাংলাদেশে এসে হয়ে যায় ১ লাখ ২০-৩০ হাজার।
কৃষির কল্যাণের জন্য উৎপাদক থেকে যাতে সরাসরি ভোক্তার হাতে পণ্য পৌছে দেওয়া যায় সেই সিস্টেমই চালু করতে চাই। এজন্য ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি জেলা পর্যায়ে শীর্ষস্থানীয় বাজারসমূহে অনেকগুলো সুপারশপের ব্যবস্থা থাকবে, যেখান থেকে গ্রাহকরা সরাসরি উৎপাদিত কৃষি পণ্য ক্রয় করতে পারবে অত্যন্ত ন্যায্যমূল্যে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন বাজারে বা পয়েন্টে এই শপগুলো বানানো হবে। আর এই শপগুলোতে পণ্য সাপ্লাই দেওয়ার জন্য থাকবে বিশাল এক কোল্ড স্টোরেজ যেখানে দীর্ঘ সময় পচনশীল দ্রব্য সংরক্ষণ করা যাবে এবং যেকোনসময় প্রয়োজন অনুযায়ী শপগুলোতে যোগান দেওয়া হবে। এর আওতায় থাকবে পচনশীল দ্রব্য তথা তরিতরকারি, শাকসবজি, মাছ মাংস, দুধ, ডিম। চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো হবে সুপারশপের পণ্য। মোট কথা মানুষ যাতে অন্তত চাল, ডাল, তেল, লবণ, আলু, ডিম, তরিতরকারি শাকসবজির অভাব না বোধ করে তাই করব।
আমার ইচ্ছা একটি বৃহদাকার বা দানবাকৃতির অটোরাইসমিল দিব, যেখানে প্রতিদিন শত শত মেট্রিকটন চাল বের হবে। যার ফলশ্রুতিতে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে। মোটকথা সকল প্রয়োজনীয় দ্রব্য নিজেই উৎপাদন করে স্বল্পমূল্যে বাজারজাত করব।
আর দেশের একজন মানুষও যাতে না খেয়ে থাকে, সেজন্য এমন একটা রেডিমেইড ফুড আইটেম যা হবে খুবই সস্তা, সুস্বাদু কিন্তু পুষ্টিকর ও মানসম্পন্ন, যা ভাতের পরিপূরক এবং ক্ষুধা নিবারণ হয়, তেমনই একটা খাবার মানে একের ভিতর সব পুষ্টি থাকবে। আমিষ, শর্করা, স্নেহ, ভিটামিন সব খাদ্য উপাদানই দেওয়া হবে। বেসিক্যালি মাছ মাংস ডিম ও ময়দার সংমিশ্রণে এটা তৈরী হবে, যা খেতে অবশ্যই সুস্বাদু হবে। যার মূল্য হবে মাত্র ১০-১৫ টাকা। যাতে ১০-১৫ টাকা দিয়েই একজন মানুষের একবেলার খাবার জোটে সে ব্যবস্থাই করতে চাই। আর এই প্রোডাক্টটি অবশ্যই যাতে ২-৩ দিন সংরক্ষণ করা যায়, সেরকম চেষ্টা আছে। অনেকটা কেক জাতীয়, তবে কেক এর মত এটা মিষ্টি না, বরং ঝালজাতীয়।
কারণ মিষ্টি আমরা সবাই ভালবাসি, তাই বলে কোন তরকারি যদি ঝাল ছাড়া শুধু চিনি দিয়ে রান্না করা হয় তাহলে কেমন হবে? কয়বেলা খাবার খেতে পারবেন? একবারও না। আমরা সকালের রুটি পরোটার সাথে হালুয়া খুজি না, খুঁজি মাংসের ঝোল ডাল আর আলুভাজি। আর সেই চাহিদাই পূরণ করবে আমার উদ্ভাবিত খাবার।
এর ফলে আমরা যতখুশি তত মাছ, মাংস, ডিম, আলু উৎপাদন করে সেগুলো খাদ্যে রুপান্তরিত করতে পারব। পৃথিবীতে এখনও যেমন অসংখ্য মানুষ না খেয় থাকে, ঠিক তেমনি অসংখ্য জমিজমা অনাবাদি থেকে যায়। সেজমি গুলো যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী আবাদ ও ব্যবহার করা যায় এবং সকলের মাঝে উৎপাদিত ফসলের সুষম বন্টন করা যায় তাহলে আমার মনে হয়, পৃথিবীতে কেউ না খেয়ে থাকবে না।
এক্ষেত্রে আমার উদ্ভাবিত কেক বা রুটিটি হতে পারে সেরা নিয়ামক । all in one food.
ভোগে সুখ নাই, ত্যাগেই একমাত্র সুখ।
মানুষ মানুষের জন্য
জীবন জীবনের জন্য।
জন্ম সৃষ্টির লক্ষ্যে
আর সৃষ্টির আনন্দ অপরিসীম।
পুঁজিবাদ নিপাত যাক, জয় হোক মেহনতী মানুষের।
ধন্যবাদ
https://www.facebook.com/safiqual.islam.1
আমাদের প্রধান ফসল হল ধান,,আমরা সকলেই
ধীরে মহামারী আকার ধারন করছে,,এই অবস্থায় যদি ধানে যথাযথ ছএাকনাশক ব্যাবহার করা না হয় তা হলো
ধানের ফলনে মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিবে,,আপনারা নিন্মলিখিত ছএাকনাশক গুলো বিকেলবেলা ব্যাবহার করতে পারেন।
1..নাটিভো/ট্রুপার/ফিলিয়া/সেলটিমা,
প্রতি লি: পানিতে এক গ্রাম হারে।এর সাথে
2..নোইন/অটোণ্টিন/কার্বোনডাজিম গ্রুপের যে কোন ছএাকনাশক প্রতি লি: পানিতে দুই গ্রাম হারে।
3-4 দিন পর পর দুই বার ব্যবহার করলেই ইনসাআল্লাহ্ এই মহামারি থেকে আমাদের রক্ষা করা সম্ভব হবে।
ধন্যবাদ
dk rasel ahmed
কৃষি পরামর্শ গ্রুপ
উৎপত্তি ও ভৌগলিক বিস্তৃতিসহ ড্রাগন ফলের পরিচয় " ড্রাগন ফল " বা ড্রাগন ফ্রুট অসমৃদ্ধ এবং বিশেষ রূপের ফল , য...