Sunday, December 12, 2021

জৈব সার তৈরি করার নিয়ম

 সমস্ত প্রশংসাই মহান আল্লাহর । এখানে বিনা পয়সায় জৈব সার তৈরির পদ্ধতি দেওয়া হলো ।

জৈব সার তৈয়ারির পদ্ধতি দেওয়া হলো

জৈব সার তৈরি করার নিয়ম

আপনার বাগান বড় ও ছোট হতে পারে । সেই অনুপাতে ফুল ড্রাম ডাকনা সহ কিনে নিবেন । বাগান বড় হলে ১২০ লিটারের ছোট হলে ৬০ লিটারের খালি ড্রাম ছিদ্র মুক্ত কিনে নিবেন । আমাদের রান্না ঘর হতে পারে জৈব সারের উৎস । এখন আপনার বাসায় রান্না ঘরের সব্জির কাটা কুটি ও খোসা ১ টি ঢাকনা যুক্ত ড্রামে ফেলতে থাকুন । এখানে ও পিয়াজ রসুনের ও পেপের খোসা দিবেন না এইটা মনে রাখবেন এই গুলি সহজে পচে না । ড্রামটি ভরে গেলে পানি দিতে হবে সাথে ১০০ গ্রাম ইউরিয়া দিয়ে দিবেন এত খুব সহসাই সব পচে যাবে । যদি দেখেন ড্রামে কোন পোকা হয়েছে তা হলে ৫০ গ্রাম পটাশ সার দিয়ে দিতে হবে । ইউরিয়ায় পচানো সাহায্য করবে পটাশ সার পোকা মুক্ত কাজ করবে । ড্রামের মুখ বন্ধ করে দিন ১০ দিন পরে মুখ খুলে দেখে নিবেন সঠিক ভাবে পচেছে কিনা । পচে গেলে ভালো ভাবে নাড়ুন নেড়ে নিয়ে এখান থেকে শুধু পানি নিবেন । স্টিলের নেট দিয়ে ছেকে শুধু পানি নিবেন । এখানে পানি কমে গেলে অল্প পানি দিয়ে নিবেন ।এক মগ পানির সাথে ৫ মগ পানি দিয়ে গাছের গোড়ায় দিতে হবে । এই পানিতে খড় কুটা যা হবে পুড়িয়ে ফেলুন ছাই হবে ছাই বেগুন গাছের জন্য ভাল জৈব সার । আপনার কস্টেই আপনার বাগান সৃস্টি হবে সবুজের ভুবন ।




সুপার ফাস্ট সার খৈল ও গোবর পচানো পানি ?
খৈল পচা একটি ভাল মানের জৈব সার । কি ভাবে তৈরি করবেন এই সার । যে কোন ঢাকনা যুক্ত পাত্র নিন তাতে ১কেজি খৈল দিয়ে ১৪ লিটার পানি দিয়ে নিবেন । সাথে শুকনা গোবর ২ কেজি মগের এক মগ দিতে হবে। এবার ড্রামের মুখ ভালো ভাবে বন্ধ করে দিন । ১০ দিন পরে লাঠি দিয়ে নাড়তে হবে ড্রামটি এয়ার টাইট হলে গন্ধ হবে না । যদি মনে করেন বেশী ঘন হয়ে গেছে তা হলে পরিমান মতো পানি দিয়ে দিবেন । ১৫ দিন পড়ে ব্যাবহারের উপযোগি হয়ে যাবে । সেই সাথে লক্ষ রাখবেন পোকা হলে এক মোঠ পটাশ সার দিয়ে দিবেন পোকা মরে যাবে । এখান থেকে ১ মগ খৈলের পানির নিবেন । সাথে আরো ১০ মগ ভাল পানি দিয়ে নিবেন । খুব পাতলা করে গাছের চার দিকে চক্র আকারে দিতে হবে । এই জৈব সার টি মাসে ২ বার দিতে পারেন । মনে রাখবেন ১মগ খৈল পাচানো পানি জন্য আরো ১০ মগ ভালো পানির কম দিতে পারবেন না । পাতলা হলে অসুবধা নেই ঘন হলে গাছ মরে যাবে । পালং শাক ও লাল শাকে দিতে হবে ১ মগের খেল পচানো পানির সাথে ১৫ মগ ভালো পানি এই ভাবে লাউ গাছে ও দিতে পারবেন । বৃষ্টির কারনে ড্রামে থাকা সারের ক্ষমতা কমে গেছে তাই এই জৈব তরল সার ব্যবহার করুন ।

অন্য সার বা রাসায়নিক সার গাছের রং গাঢ় সবুজ থাকলে দিতে হবে না । কিছু কিছু সময় পরিমিত রাসায়নিক সার দিতে হবে গাছে ফুল করার আগে আগে ।পাতার সাইট লাল হলে পটাশ সার ১৮ লিটার পানিতে দুই মোট ভিজিয়ে চক্র আকারে দিতে হবে । ডেপ সার ব্যাবহার করলে অন্য সার তেমন লাগে না । ফুল কলি ঝরে গেলে বোরন প্রতি গাছের চার দিকে এক চিমটি পরিমান দিতে হবে মাসে ২ বার । মনে রাখবেন শাক-সবজি, ফুলের জন্য ছোট খাট টব বা পানির বোতল হলে ও চলে । কিছু কিছু গাছ যেমন মরিচ গাছ সহ লতা জাতিয় ফুল সব কিছু ৫ লিটার পানির বোতলে লাগাতে পারেন । কিন্তু ফলের ক্ষেত্রে পাত্র/ড্রাম যত বড় হয় তত ভালো ।





এর বাহিরে জানতে চাইলে আমার ইউটিউবের চ্যানলটি ভিজিট করুন করতে লিখুন alamgir sikder rooftop garden

ধন্যবাদ

Saturday, December 11, 2021

জিংক সালফেট (মনোহাইড্রেট)


জিংক সালফেট (মনোহাইড্রেট) প্রয়োগক্ষেত্র ও বৈশিষ্ট্য এবং অভাবজনিত লক্ষণ।


জিংক সালফেট (মনোহাইড্রেট) প্রয়োগক্ষেত্র ও বৈশিষ্ট্য এবং অভাবজনিত লক্ষণ।

জিংক সালফেট (মনোহাইড্রেট)


জিংক সালফেট (মনোহাইড্রেট)
জিংক : ৩৬% ও সালফার : ১৭.৫%।

ফসলের জিংক বা দস্তার অভাবজনিত লক্ষণ:
*গাছের কচি পাতার গোড়া ও মধ্য শিরা সাদা হয়ে যায়।
*ধান, গম, ভুট্রার জমিতে গাছের বৃদ্ধি অসমান হয়। ফলে চারা কোথাও ছোট আবার কোথাও বড় দেখা যায়। এতে ফসল আগে পরে পাকে বা পাকতে দেরি হয় এবং ফলন কম হয়।
*পুরনো পাতায় মরিচা পরার মত ছোট ছোট দাগ দেখা যায়, যা দ্র্রুত বাদামী রং ধারণ করে।



* জিংকের বৈশিষ্ট্য:
* জিংক ব্যবহারে গাছে জিংক সালফারের ঘাটতি কম হয় এতে গাছের রং দ্রুত সবুজ হয়, গাছের বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয়। এবং ফলন বাড়ে।
* জিংক গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং সঠিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
* জিংক ব্যবহারে দানা জাতীয় শস্য অধিক পুষ্ট হয় এবং ফলন বেশি হয়।

প্রয়োগক্ষেত্র : ধান, গম, ভুট্রা, আখ, আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেমটো, বেগুন, মরিচ, কুমড়া, শসা, পটল, করলা, চিচিংগা, ঢেড়শ, পান, আনারস,কলা, তরমুজ, তুলা, চা ইত্যাদি ফসলে জিংক ব্যবহার করলে আশানুরুপ ফলন পাওয়া যায়।

অনুমোদিত মাত্রা : একর প্রতি ৩ কেজি।
প্রয়োগ পদ্ধতি : জমি তৈরীর শেষ চাষে অনুমোদিত মাত্রায় জিংক ছিটিয়ে প্রয়োগ করে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে। এছাড়া ফসলের শারীরিক বৃদ্ধির সময় জিংকের অভাবে লক্ষণ দেখা দিলে গাছের মাটির সঙ্গে ভলোভাবে মিশিয়ে দিন।

সাবধানতা :
* জিংক কখনো টিএসপি, এসএসপি বা ডিএপি সারের সঙ্গে একত্রে মিশিয়ে প্রয়োগ করবেন না।
*মানুষ ও পশু খাদ্য থেকে দূরে নিরাপদ স্থানে রাখুন।
*ব্যবহারের সময় ধুমপান, পানীয় ও খাদ্য গ্রহণ করবেন না।
*ব্যবহারের পর হাত, মুখ ও কাপড়-চোপড় ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।

সংরক্ষণ :
বাতাসের জলীয় অংশে সংস্পর্শে এসে জিংক সহজেই ভিজে যায়। সুতরাং জমিতে ব্যবহারের কিছু আগে প্যাকেট খুলুন এবং অব্যবহৃত সার ভালোভাবে বন্ধ করে শুকনো ও ছায়াযুক্ত স্থানে রাখুন।



ধন্যবাদ সকলকে

আমিন

কৃষি পরামর্শ Group

Thursday, December 9, 2021

রবি ১ পাট বা বিজেআরআই পাট

জিনোম ভিত্তিক গভেষণায় উদ্ভাবতি পাটের নতুন জাত  (রবি-১) বা বিজেআরআই তোষা পাট-৮ 



১.  ভুমিকাঃ 
বর্তমানে চাষকৃত সর্বোচ্চ ফলনশীল পাট জাতের চাইতে প্রায় ২০% বেশী ফলনশীল  (‘রবি-১’) নামে পরিচিতি লাভ করা জিনোম ভিত্তিক গভেষণায় উদ্ভাবতি তোষা পাটের লাইনটি জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক ২০১৯ সালে জাত হিসেবে অবমুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ পাট গভেষণা ইনস্টটিউিট এ বাস্তবায়নাধীন পাট বিষয়ক মৌলিক ও ফলিত গবেষণা প্রকল্পের বিজ্ঞানীগণ এর উদ্ভাবক।  বিভিন্ন পরীক্ষণের  বাংলাদেশের প্রায় সকল এলাকায় সেনাপতি মার্কা ‘রবি-১’ বা বিজেআরআই তোষা পাট-৮ জাতটি চাষ উপযোগী বলে প্রমাণিত হয়েছে।

(রবি-১) বা বিজেআরআই তোষা পাট-৮




২.  রবি-১ এর বিশেষ বশৈষ্ট্যি সমূহ :
(ক) স্বাভাবিক গড় উচ্চতা প্রচলিত জাত অপেক্ষা ৩০-৩৫ সেন্টিমিটার বেশী;
(খ) গাছের গোঁড়া এবং আগার ব্যাসরে র্পাথক্য অপেক্ষাকৃত কম অর্থাৎ অধিকতর সলিন্ড্রিক্যিাল
(গ) গাছের ছালে ফাইবার বান্ডেলের ঘনত্ব বেশী;
(ঘ) আগাম বপন উপযোগী (মার্চ - এপ্রিল);
(ঙ) প্রচলিত জাতসমূহ হতে উন্নততর আঁশ বিশিষ্ট (চিকন, অধিকতর উজ্জ্বল এবং শক্ত)।

৩. শনাক্তকরণ বশৈষ্ট্যিঃ
(ক) স্থায়ী লাল বর্ণের উপপত্র;
(খ) পাতা উজ্জ্বল ও চকচকে।

৪.  আবাদ মৌসুম ও ভ‚মির বশৈষ্ট্যিঃ
জিনোম ভিত্তিক গভেষণায় উদ্ভাবতি পাটের নতুন জাত  (রবি-১) বা বিজেআরআই তোষা পাট-৮

(ক) মধ্য ফাল্গুন (মার্চ) হতে মধ্য বৈশাখ (এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ) পর্যন্ত বপনযোগ্য তবে মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ বীজ বপনের সর্বাধিক উপযোগী সময়; 
(খ) অপেক্ষাকৃত উঁচু, জলাবদ্ধতাহীন দোঁয়াশ এবং বেলে-দোঁয়াশ মাটি ‘রবি-১’ চাষের জন্য উপযোগী।
(গ) এ জাতটি বোর ধান কাটার পর বপন করে জমিকে সহজেই ৩-ফসলী শস্য ক্রমের আওতায় আনা যায়।

৫.  গুনগত মানসম্পন্ন আঁশ উৎপাদন ঃ
রবি ১ পাট বা বিজেআরআই পাট  উৎপাদনের কলা -কৌশল ।

(ক) অধিক ফলন ও গুনগত মানসম্পন্ন আঁশ পাওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়ে বপনকৃত পাট গাছ ১১০-১২০ দিনে কাটা উত্তম। তবে প্রয়োজনে এ জাত ১০০ দিনেও কর্তন করা যাবে। সে ক্ষেত্রে ফলন সামান্য কম হলেও এতে আঁশ সোনালী রঙ ধারণ করে এবং নরম থাকে যা বিভিন্ন রকমের উন্নত মানের পাট পন্য তৈরিতে উপযোগী বলে বিবেচিত হয়েছে।
(খ) পাট গাছ কাটার পর ১০-১২ টি গাছ একত্রে আঁটি বেধে জমিতে ৩-৪ দিন খাড়া রাখার পর, পাতা ঝরিয়ে পানিতে জাঁক দেয়া শ্রেয়। জাঁক খুব পুরু না করে খড় বা কচুরীপানা দিয়ে ঢেকে দেয়া ভাল। সাধারনত: ১৫-১৮ দিনের মধ্যইে জাঁক সম্পন্ন হয়ে যায় এবং আঁশ ছাড়িয়ে রোদ্রে শুকাতে হয়। ধোয়া আঁশ আড়ে শুকানো উচিত। মাটিতে শুকালে আঁশের মান খারাপ হয়ে যায়।
(গ) এছাড়া পানি স্বল্প এলাকায় আঁশ ছড়ানোর জন্য রিবন রেটিং পদ্ধতওি অবলম্বন করা যেতে পারে।



ভারতীয় জাত জেআরও-৫২৪ ও দেশীয় জাত বিজেআরআই  রবি-১ এর  মধ্যে র্পাথক্য  :

ভারতীয় জাত জেআরও-৫২৪
জেআরও-৫২৪ জাতটির বয়স অনেক বেশি
জেআরও-৫২৪ জাতটির রোগ বলাই বেশি
জেআরও-৫২৪ জাতটির ফলন রবি-১ অপেক্ষা কম
জেআরও-৫২৪ জাতটির ৭০-৮০ দিন পর হতে গাছ মরা শুরু হয় যার ফলে ফলন কম হয়।
জেআরও-৫২৪ জাতটির বিঘা প্রতি বীজ বপন প্রায় 
১ কেজি (অঙ্কুরোধ ) ক্ষমতা কম।

বাংলাদেশীয় জাত বিজেআরআই রবি-১
রবি-১ জাতের বয়স কম
রবি-১ জাতটির রোগ বলাই সহনশীল
রবি-১ জাতটির ফলন অনেক বেশী
রবি-১ জাতটির গাছ সহজে মারা যায় না যার ফলে ফলন অধিকতর বেশী হয়।
রবি-১ জাতটির বিঘা প্রতি বীজ বোপন প্রায় ৫০০ গ্রাম (অঙ্কুরোদম) ক্ষমতা বেশি। 

ধন্যবাদ সকলকে

আমিন

কৃষি পরামর্শ Group






জিপসাম সার এর প্রয়োজনীয়তা ও ব্যবহার



জিপসাম সার  এর প্রয়োজনীয়তা ও ব্যবহার।

জিপসাম সার


উৎপাদন : ক্যালসিয়াম ২০% ও সালফার ১৬% বিদ্যামান।
ফসল ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত লক্ষণ : গাছের অগ্রভাগের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়, গাছ দূর্বল ও বামণাকৃতির হয়, পাতার কিনারা ও শিরা হলুদ বর্ণ ধারণ করে এবং কচি পাতা কুঁকড়ে যায়, ফুল ও ফলের র্কুড়ি অসময়ে ঝরে যায়।


ফসলে সালফারের অভাবজনিত লক্ষণ : কচি পাতা হলদে-ফ্যাকাসে বিবর্ণ রং ধারণ করে এবং ধীরে ধীরে পুরাতন পাতাও হলদে হয়ে যায়। গাছের বৃদ্ধি ও কুশির সংখ্যা কমে যায়। গাছ বেঁটে হয়ে যায় ও পাতার পচন ধরে। ফসল পরিপক্ক হতে দেরি এবং ফলন কমে যায়। শস্যের গুণগত মান লোপ পায়।


জিপসাম সার এর প্রয়োজনীয়তা : ক্যালসিয়াম ও সালফারের অভাবে ২৫% পর্যন্ত ফলন কম হতে পারে। জিপসাম ফপসলের সঠিক বৃদ্ধিতে সহয়তা করে। গাছের পাতা সবুজ করে, শিকড় বৃদ্ধি করে ও কুশির সংখ্যা বাড়ায়। ফসলের কোষ গঠনে সহায়তা করে। গছের নাইট্রোজেন গ্রহণে সহায়তা করে। সঠিক সময়ে ফসল পরিপক্ক হতে সহায়তা করে। তৈল জাতীয় ফসলে তেল উৎপাদনে সহায়তা করে। শস্যের গুণগত মান বৃদ্ধি করে।


জিপসাম সার প্রয়োগক্ষেত্র : আম, আলু, ধান, গম, ভুট্রা সহ সকল তৈল জাতীয় ফসল, ডাল জাতীয় ফসল, শীতকালীন ও গ্রীস্মকালিন শাক -সবজি, পান, সকল প্রকার ফুল ও ফলে সালফার ও ক্যালসিয়াম অভার পূরণের জন্য এবং আশানুরূপ ফলন পেতে নির্ধারিত মাত্রায় জিপসাম ব্যাবহার করতে হবে।


ব্যবহারবিধি : জমি তৈরির শেষ চাষে ছিটিয়ে প্রয়োগ করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। ফসলে ক্যালসিয়াম ও সালফারের অভার দেখা দিলে মাত্রানুযায়ী ছিটিয়ে প্রয়োগ করতে হবে।

ধন্যবাদ সকলকে

আমিন

কৃষি পরামর্শ Group




 

Sunday, December 5, 2021

মেহেদির উপকারিতা

 মেহেদিঃ

মেহেদিঃ


মেহেদি (Lawsonia inermis), মেহেন্দী, মেন্দি। ইংরেজিতে হেনা, যা আরবি হিন্না حِنَّاء থেকে এসেছে। এটি এক ধরনের সপুষ্পক উদ্ভিদ, মেহেদি একটি লম্বা গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ, যা সাধারণত ১.৮ থেকে ৭.৬ মিটার (৬ থেকে ২৫ ফুট) পর্যন্ত লম্বা হয়। এটি একটি বহু শাখাযুক্ত উদ্ভিদ। কচি সময় এর কাণ্ড গুলো বেশ নমনীয় থাকলেও ধীরে ধীরে বেশ শক্ত পোক্ত এবং অভঙ্গুর হয়ে উঠে। কাণ্ডে পাতা একে অপরের বিপরীতে বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘজীবী মেহেদি উদ্ভিদে ফুল ফুটতেও দেখা যায় আবার এই ফুল থেকে ফলও উৎপন্ন হয়। 

এর পাতা প্রাচীনকাল থেকে ত্বক, চুল, নখ, পশুর চামড়া ও পশম রঙিন করার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই উদ্ভিদের পাতার সাথে অন্যান্য দ্রব্য মিশিয়ে আধা-কৃত্রিম পদার্থ তৈরি করা হয়, সেটাও মেহেদি নামেই পরিচিত। মেহেদির নানা প্রকার ঔষধি গুণাগুণও রয়েছে । 

এছাড়াও হাত, পা ও নখ সাজাতেও মেহেদি পাতা ব্যবহার হয়ে থাকে। চুল ঘন হয়, চুলের গুড়া শক্ত করে, রুক্ষতা দূর করে, চুল রেশমী ও ঝরঝরে করে, মাথা ঠান্ডা রাখে, চুলের আগা ফাটা রোধ করে, খুশকি দূর করে, চুলের স্বাস্থ্য ঠিক রাখে এবং সাদা চুল রং করে। 

ব্রোঞ্জ যুগ থেকেই দুনিয়াবাসীরা রঞ্জক হিসেবে মেহেদি ব্যবহার করে আসছে। দুনিয়ার বহু দেশে এটি উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। 

বাংলাদেশ এবং ভারতে ঈদ ও বিয়ে উপলক্ষে এর ব্যবহার অনেকটা আবশ্যিকরূপে প্রচলিত। ভারতীয় আদালতে চুলের রঙ হিসেবে মেহেদির ব্যবহারের কথা উল্লেখ আছে । 

ছত্রাক-রোধী হিসেবেও মেহেদি কার্যকর। কাপড় ও চামড়া সংরক্ষণেও এর ব্যবহার হয়। মেহেদি ফুল থেকে সুগন্ধী তৈরি হতো বহু প্রাচীনকাল থেকেই, বর্তমান যুগে এর উৎপাদন আবার শুরু হয়েছে। পোকা দমনেও মেহেদি ব্যবহৃত হয়।

 কমাতে সাহায্য করে

মেহেদি গাছের উপর কিছু গবেষণা করা হয়েছিল এবং দেখা গেছে যে এতে কিছু উপাদান রয়েছে যা শরীরের জন্য অ্যান্টিপাইরেটিক বৈশিষ্ট্য হিসাবে কাজ করে। আয়ুর্বেদ অনুসারে, যাদের জ্বর আছে তাদের পায়ে এবং হাতে তাজা মেহেদি পাতা ব্যান্ডেজ দিয়ে বেঁধে রাখা উচিত।

 চুলের স্বাস্থ ভালো রাখতে

মেহেদির গুঁড়া পানিতে ভিজিয়ে এর পেস্ট চুলে লাগালে চুলে সঠিক পুষ্টি পাওয়া যায়, যা চুল পড়া কম করে এবং চুল নরম রাখে। দইয়ের সঙ্গে মেহেদি মিশিয়ে চুলে লাগালে আরও উপকার পাওয়া যায়। অন্যদিকে, সাদা চুল মেহেদি দিয়ে লাল রঙ করা যেতে পারে।

অনেক ধরনের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে

মেহেদিতে এমন কিছু কার্যকরী উপাদান পাওয়া যায়, যা অনেক ধরনের ব্যাকটেরিয়া এবং ফাঙ্গাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। আপনার ত্বকে কোনো ক্ষত সংক্রমিত হয়ে থাকলে তাজা মেহেদি পাতা পিষে পেস্ট লাগাতে পারেন।

মাথা ব্যাথ্যা ও উচ্চ রক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করে

মেহেদি গাছের অনেক স্বাস্থ্যকর বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা শরীরে কার্যকরভাবে কাজ করে। কিছু ঐতিহ্যগত চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসারে, যদি মেহেদি গাছের রস বের করা হয় বা এর বীজ খাওয়া হয়, তবে এটি মাথাব্যথা এবং উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণগুলিকে অনেকাংশে কমাতে পারে ।

যাইহোক, মেহেদি থেকে প্রাপ্ত স্বাস্থ্য উপকারিতা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। কারণ একেকজনের শারীরিক প্রভাব একেক রকম, যার ওপর মেহেদির  প্রভাবও একেক রকম।

মেহেদির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

মেহেদি এমন অনেক উপাদান রয়েছে, যা কিছু মানুষের শরীরে বিষাক্ত প্রভাব সৃষ্টি করে এবং এই ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি দেখা দিতে শুরু করে-

  • পেট ব্যথা
  • বমি বমি ভাব
  • ডায়রিয়া
  • গ্যাস গঠন
  • কিডনি ক্ষতি
  • লাল রক্ত ​​​​কোষের ক্ষতি

অন্যদিকে, কিছু লোকের মেহেদি থেকে অ্যালার্জি হতে পারে এবং তাদের ত্বকের সংস্পর্শে আসার সাথে সাথে চুলকানি, জ্বালাপোড়া এবং লাল ফুসকুড়ি হতে শুরু করে।

 

কিভাবে মেহেদি ব্যবহার করবেন

মেহেদি নিম্নলিখিত উপায়ে ব্যবহার করা যেতে পারে:

  • পানির সঙ্গে মেহেদির গুঁড়া মিশিয়ে মাথায় ত্বকে লাগান।
  • এর তাজা পাতা পিষে ত্বকে পেস্ট লাগান।
  • পানিতে পাতা সিদ্ধ করে তা দিয়ে আক্রান্ত স্থান ধুয়ে ফেলুন।

যাইহোক, যদি আপনাকে মেহেদি গাছের রস খেতে হয়, তবে এটি করার আগে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করার জন্য কঠোরভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়।




Saturday, November 27, 2021

ছাদ বাগান প্রশিক্ষণ


ছাদ বাগান প্রশিক্ষণ বেশ কিছু দিন, ঢাকার বিভিন্ন ছাদ বাগান ভিজিটের অভিজ্ঞতায় আজকের এই লেখা


আসলে ছাদ বাগান করা খুব সহজ।আগে খেয়াল করুন, চারা রোপনের পর ড্রেনেজ সিস্টেম ঠিক আছে কিনা!

পানির ইনপুট ও আউটপুট সঠিক হচ্ছে কিনা!

এখানে ভুল হলে গাছের ডাইজেস্ট প্রবলেম হয়।

এবার আসুন

পরিচর্যায়ঃ

ইকোম্যাক ২ মিলি+ মারগোসা ( নিম তৈল) ১ মিলি=১ লিঃ পানিতে মিশিয়ে স্প্রে  দিন ৭ দিন পর পর, এতে করে পোকা, মাকড় ও মিলিবাগ দমন হবে। যদি কিনা শুরুতেই এটা ব্যবহার করেন,তবে গাছ নিরাপদ। 

ট্রাইকোডার্মা পাউডার ১ লিঃ পানিতে ৫ গাঃ +সলুবোর বোরন ১ গাঃ একসাথে সকালে ভিজিয়ে বিকালে স্পে দিন ১৫ দিন পর পর স্পে দিন। এতে করে ছত্রাক দমন হবে ও ভিটামিনের চাহিদা পূরন করবে।গাছে ফলের গুটি থাকলে আটকে যাবে, ঝরে পড়বে না,পরবর্তী ১৫ দিন পর ট্রাইকোডার্মা ৫ গাঃ + চিলিটেড জিংক ১ গাঃ এক সাথে সকালে মিশিয়ে বিকালে স্পে দিন। এভাবেই ঘুরবে।

হিউমিনাল গোল্ড ১ লিঃ পানিতে ২ মিলি মিশিয়ে স্পে দিন ২০ দিন পর পর, এটা জৈব পিজিআর, জৈব উৎস হতে তৈরি, এটা গাছের বৃদ্ধিতে খুবই সহায়ক। 

মাসে ১ বার বাম্পার স্পে দিন 

এটা আপনার গাছের ঘাটতি খুজে বের করে, সেখানেই তার চাহিদা পূরন করবে,সাথে মাসে ১ বার বুস্টার টু ১ লিঃ পানিতে ১ ফোটা, পরাগায়নের সমস্যা নিয়ে আর কথা নয়। ৩ মাস পর পর গাছ প্রতি পরিমাণ মত কেঁচো সার, হাড়ের গুড়া, নিম খৈল দিন। গাছে কোন ব্যাধি আসবে না।

লেখা টি উৎসর্গ করলাম,প্রিয় সবুজ সাথী, আপনার জন্য। 

ভাল থাকবেন আপনি, ভাল থাকবে আপনার ছাদবাগান,ভাল থাকবো আমরা সবাই। কথা হবে আবার সবুজে সবুজে।

লেখক



Wednesday, November 24, 2021

ছত্রাক


 ছত্রাক 

 আছছালামু আ'লাইকুম।গাছে এইরকম হলে ২ টি বিষয়ের দিকে খেয়াল দিতে হবে। ১ নাম্বারে গাছে কি পরিমাণ ভিটামিন আছে! গাছ যাতে তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি পায় সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। ২ নাম্বারে গাছের কোকড়া ছাড়ানোর জন্য   ছত্রাক নাশক+মাকড় নাশক + কীটনাশক পরিমাণ মতো স্প্রে করতে হবে। 

আপনি যতই স্প্রে করেন লাভ নেই যদি গাছ বৃদ্ধির হার কমে যায়। 


গাছে ভিটামিনের অভাব পূরণ করা,ছত্রাক নাশক+মাকড় নাশক + কীটনাশক স্প্রে করার কারণঃ

 আপনি গাছে সবরকম বিষ দিয়েছেন গাছ সুস্থ কিন্তু গাছ যদি বৃদ্ধি না পায়, তাহলে আপনার গাছে ফল ধরবে কোথায়, যে ফুল থাকাকালীন গাছে কোকড়া ধরেছে ঐ ফুল গুলাতে ফল হবে না, ফল হলেও ভালো হবে না। নতুন কুশি বের হবে সেইগুলাতে সুস্থ ফুল- ফল হবে। নতুন কুশি বের করার জন্য গাছে সার/ভিটামিন  দিতে হবে।  



 ছত্রাক নাশক গাছের কোকড়া ছাড়ায়। 

মাকড় নাশক স্প্রে করা হয় যাতে মাকড়ে রোগটা আর না ছড়াতে পারে। 

কীটনাশক দেওয়া হয় যাতে অন্যান্য পোকার মাধ্যমে এই রোগটা আর না ছড়ায়। 


মোট কথা হলো স্প্রে করতে হবে আর গাছ যাতে তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি পায় সেইদিকে খেয়াল দিতে হবে। শুকরিয়া।

Last post

ড্রাগন ফলের পরিচয়

  উৎপত্তি ও ভৌগলিক বিস্তৃতিসহ ড্রাগন ফলের পরিচয়     " ড্রাগন ফল " বা ড্রাগন ফ্রুট অসমৃদ্ধ এবং বিশেষ রূপের ফল , য...