Friday, September 9, 2022

কুমড়ার চাষ


কুমড়ার চাষ।

কুমড়ার চাষ

 জাত নির্বাচনঃ

আমাদের দেশে একটি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন হয়েছে যা বার মাসই চাষ করা যায়। নাম তার বারি চাল কুমড়া-১। সম্প্রতি আমাদের দেশে হাইব্রিড জাতের চালকুমড়ার বীজও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এসব জাতের মধ্যে #জালিরাজ, জুপিটার, ইউনিক, ভেনাস, পানডা, সুমাইয়া, বাসন্তী, নিরালা, মনি, দেব-১২০৩, মাধবী ইত্যাদি অন্যতম। 


মাটিঃ

প্রায় সব ধরনের মাটিতে চাল কুমড়া চাষ করা যায়। তবে চাল কুমড়া চাষের জন্য দো-আঁশ ও এটেল দো-আঁশ মাটি উত্তম। 


বপনের সময়ঃ

সারা বছরই চাল কুমড়ার চাষ করা যায়। তবে ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত বীজ বোনার উপযুক্ত সময়।

বীজের পরিমাণঃ

প্রতি শতাংশ জমিতে প্রায় ১৫-২০ গ্রাম বীজের দরকার হয়।


জমি তৈরি ও বীজ বপনঃ

চাল কুমড়া যদি বসতবাড়িতে করতে চান সেক্ষেত্রে ঘরের কোণে মাদা তৈরি করে তাতে ৩-৪টি বীজ বপন করতে হবে। এবং চারা গজালে ও একটু বড় হলে বাঁশের কঞ্চি বা পাট কাঠি চারার গোড়ায় পুঁতে দিয়ে চারাগুলো চালায় তুলে দিতে হবে। আর জমিতে চাষ করলে জমি ভাল করে ৩-৪টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে।

তারপর জমিতে মাদা তৈরি করে ৪-৫টি বীজ বপণ করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে জমিতে যেন বৃষ্টির বা বন্যার পানি জমে না থাকে।এরপর ২.৫ ফুট চওড়া ২ ফুট গভীর গর্ত তৈরি করতে হবে। ২ থেকে ২.৫০ মিটার দূরে দূরে মাদা তৈরি করে বীজ বুনতে হবে।


সার প্রয়োগ পদ্ধতিঃ

ইউরিয়া ১০০-১২০ কেজি/ একর

টিএসপি ৮০-১০০ কেজি/ একর

মিউরেট অব পটাশ ৫০-৬০ কেজি/ একর

জিপসাম ৩০-৪০ কেজি/ একর

জিংক অক্সাইড ৫-৮ কেজি/ একর

গোবর সার ৪-৫ মেট্রিক টন/ একর

ইউরিয়া সার বাদে অন্যান্য সব ধরণের সার বীজ বোনার ৫-৭ দিন আগে জমি তৈরি করার সময় মাদার মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।


পরিচর্যার নিয়মঃ

প্রত্যেক মাদায় সুস্থ সবল ২-৩টি চারা রেখে বাকি চারা তুলে ফেলতে হবে। নিয়মিত বিশেষ করে গাছের গোড়ার আগাছাগুলো পরিষ্কার ও গোড়ার মাটি কুপিয়ে আলগা করে দিতে হবে। জমির মাটিতে রস না থাকলে সেচ দিতে হবে। বর্ষার পানি নিকাশের জন্য নালার ব্যবস্থা করতে হবে। গাছ বড় হওয়ার সাথে সাথে মাচা তৈরি করে দিতে হবে।


পোকমাকড় দমনঃ

চাল কুমড়া গাছে বিভিন্ন পোকার আক্রমন হয়। এসকল পোকার মধ্যে মাছি পোকা সবচেয়ে ক্ষতিকর। মাছি পোকার আক্রমনে চালকুমড়ার ফলন মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হয়। এই পোকা প্রথমে চাল কুমড়ার ফুলের মধ্যে ডিম পাড়ে, পরবর্তীতে ডিম থেকে কীড়া বের হয়ে ফলের ভেতর খেয়ে ফল নষ্ট করে ফেলে। এপোকার জন্য ফলন নষ্ট হয় ৫০-৬০ ভাগ।


তাই আমাদের কঠোরভাবে মাছি পোকা দমন করতে হবে। এই পোকা দমন করার প্রথম উপায় হচ্ছে-

পোকা দেখা মাত্র মেরে ফেলা।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ করা।

এ পোকা মারার ফাঁদ তৈরি করা এবং

বিষটোপ ব্যবহার করা।


ফসল সংগ্রহঃ

চাল কুমড়া গাছ লাগানোর ৬০-৭০ দিনের মধ্যে ফল দেওয়া শুরু করে। চাল কুমড়া সবজি হিসেবে খেতে হলে সবুজ হুল যুক্ত ৪০০-৬০০ গ্রাম হলে তুলতে হবে। মোরব্বা বা বড়ি দেওয়ার জন্য পরিপক্ক করে ১২০-১৩০ দিন পর তুলতে হবে।

আমাদের দেশে চাল কুমড়ার চাষ করে অনেকেই দারিদ্র দূর করেছে।


Thursday, September 8, 2022

মানুষের জীবনের সফলতারও উঠানামা আছে।

 বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম 

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ,

আলহামদুলিল্লাহ, কেমন আছেন সবাই 

মানুষের জীবনের সফলতারও উঠানামা আছে।


মানুষের জীবনের সফলতারও উঠানামা আছে।


মানুষের জীবনের সফলতারও উঠানামা আছে, তাই এটা ভাবা উচিৎ নয় যে আপনি সবসময় সফল থাকবেন – এটা বাস্তবও নয়, সম্ভবও নয়।


উপরে উঠলে নিচে নামতেই হবে, নিচে নামা মানে নেমে যাওয়া নয়, আবার উঠার জন্য বিশ্রাম নেয়া। সফলতা এঞ্জয় করারও সময় দরকার। একজন প্রতিনিয়ত সফল মানুষ কখনো তার সফলতা এঞ্জয় করতে পারে না।


সুতরাং শুধু সম্পদ, বাড়ী-গাড়ী বা টাকা বা বড় চাকরী বা বড় বিজনেস মানেই সফলতা নয়। আপনার অনেক টাকা আছে কিন্তু কোনদিন কোন মানুষের জন্য কিছু করেননি বা করার সুযোগ হয়নি – এটাকে সফলতা বলে না। এটা দিয়ে আপনার জীবনের গল্প কোনদিন লেখা হবে না। 


আপনি জীবনে  পচুর টাকা রোজগার করলেন কিন্তু যদি আপনি নিহাত  একটা মানুষেরও কোন কাজে না আসেন, বা কারো জীবন গড়তে এতটুকু সাহায্য না করেন বা একটা অসহায় বাচ্চার লেখাপড়ার দায়িত্ব না নেন, বা অন্তত এক ব্যাগ রক্ত দিয়ে কারো জীবন না বাঁচান – এই জীবন বেঁচে থাকা নয়, এটা সফলতা নয়!


মানুষের জন্য কিছু করতে পারার যে আনন্দ, তা অনেক টাকা রোজগার করেও পাওয়া যায় না  


আপনার সুশিক্ষা আছে, সম্পদও আছে কিন্তু স্বাস্থ্য ভালো নেই, নিজের শরীরের যত্ন নেন না, আপনি কোনদিন সুখ পাবেন না। সুতরাং কাজ করতে হলে সব সময় শরীরের যত্ন নিতে হবে। ভুলে যেতে হবে ১ দিন মানে ২৪ ঘণ্টা নয় ২৩ ঘণ্টা, বাকী ১ ঘণ্টা ব্যায়ামের জন্য রাখতে হবে প্রতিদিন।


আপনার শিক্ষা আছে কিন্তু সততার সঙ্গে আয় রোজগার করেন না, মানুষকে ঠকান, মানুষকে অসম্মান করেন, খুব সহজেই মানুষকে অপমান করেন, আপনি মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করেন না, তবে বুঝতে হবে আপনার সুশিক্ষা ও পারিবারিক শিক্ষার অভাব আছে। শুধু শিক্ষা নয় দরকার সুশিক্ষা।


আপনার হয় অর্থ সম্পদ অনেক আছে কিন্তু সম্পদ রক্ষার চিন্তায় আপনি ঘুমুতে পারেন না, পরিবারের কাছে আপনি প্রিয় মানুষ নন, আপনি পরিবার বা সমাজের কাছে কোন আদর্শ তৈরি করতে পারেননি এবং পরিবারের যত্ন করেন না আপনি – যত টাকাই থাকুক আপনি সফল নন।  


যে টুকু সম্পদই আপনার থাকা উচিৎ যা আপনি উপভোগ করতে পারেন ও মন থেকে মানুষকে সাহায্য করতে পারেন এবং মানুষের জন্য কাজ করতে পারেন।


জীবনের সবচেয়ে বড় সফলতা হচ্ছে খুশি থাকা। আর একজন ভালমানুষই জীবনে বেশীর ভাগ সময় খুশী থাকতে পারে।


আর আমাদের সকলের  নিজের বলার মতো একটা গল্প থাকা দরকার যা আমরা  বুক ফুলিয়ে  অকপটে  সবার সামনে  বলতে পারি,



Wednesday, August 31, 2022

গোড়া পচা রোগ

 

গোড়া পচা রোগ





গোড়া পচা রোগ/ ডেমপিং অফ

*রোগের কারণ: ছত্রাক

*ক্ষতির ধরণ :

চারার গোড়া বা শিকড় পচে ঢলে পড়ার মাধ্যমে এ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। আক্রান্ত চারার গোড়ার চারদিকে বাদামি বর্ণের পানিভেজা দাগ দেখা যায়। আক্রমণের দুই দিনের মধ্যে চারা গাছটি ঢলে পড়ে ও আক্রান্ত অংশে তুলার মতো সাদা মাইসেলিয়াম দেখা যায় ও অনেক সময় সরিষার মত ছত্রাকের অনুবীজ পাওয়া যায়। চারা টান দিলে সহজে মাটি থেকে উঠে আসে।

*ফসলের যে পর্যায়ে আক্রমণ করে : বাড়ন্ত পর্যায়, চারা;

*ফসলের যে অংশে আক্রমণ করে : শিকড়, গোঁড়া;


*ব্যবস্থাপনা :

জমি শেষ চাষের সময় বিঘা (৩৩ শতাংশ) প্রতি ৮-১০ কেজি  ট্রাইকোডার্মা সমৃদ্ধ "বায়োডার্মা সলিড" মাটিতে ছিটিয়ে মিশিয়ে দিতে হবে।

আক্রান্ত গাছের ক্ষেত্রে ৩-৫ গ্রাম ট্রাইকোডার্মা সমৃদ্ধ "বায়োডার্মা পাউডার" এক লিটার পানিতে মিশিয়ে আক্রান্ত স্থান, মাটিসহ গাছের গোড়া ভালোভাবে ভিজিয়ে দিতে হবে।

এছাড়া ধানের ব্লাস্ট, ধানের সিথ ব্লাইট, ঢেঁড়শ ও পুঁইশাক -এর সারকোসপোরা লিফ স্পট, মরিচের এনথ্রাকনোজ, শিম ও চায়ের রেড রাস্ট, ফিউজেরিয়াম উইল্ট, চারা গাছের ঢলে পড়া, কলার সিগাটোগা, বেগুনের স্টেম ব্লাইট ইত্যাদি রোগ দমনে জৈব বালাইনাশক "বায়ো-শিল্ড" ১ মিলি/লিটার পানিতে মিশিয়ে পুরো গাছে স্প্রে করে দিতে হবে।


*পূর্ব-প্রস্তুতি :

একই জমিতে বার বার কপিজাতীয় ফসল চাষ করবেন না। দিনের বেশির ভাগ সময় ছায়া পড়ে এমন জমিতে কপিজাতীয় ফসল চাষ করবেন না। পরিমিত সেচ ও পর্যাপ্ত জৈব সার প্রদান করুন। পানি নিস্কাশনের ভাল ব্যবস্থা রাখুন।  লাল মাটি বা অম্লীয় মাটির ক্ষেত্রে শতাংশ প্রতি চার কেজি হারে ডলোচুন প্রয়োগ করুন (প্রতি তিন বছরে একবার)।

ধানের ক্ষেত্রে ২৫ গ্রাম "বায়োডার্মা পাউডার" ১ কেজি বীজ জাগ দেওয়ার পূর্বে ভেজানোর সময় শেষবারের পানিতে মেশাতে হবে।

সবজির ক্ষেত্রে ৫ গ্রাম "বায়োডার্মা পাউডার" ১০ গ্রাম বীজের সাথে পেস্ট করে মিশিয়ে নিতে হবে।

চারা শোধনের ক্ষেত্রে "বায়োডার্মা পাউডার" ১০ গ্রাম প্রতি ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে চারার শিকড় ১০ মিনিট চুবিয়ে রাখতে হবে।

"আসুন বিষমুক্ত ফসল আবাদ করি, সুন্দর পৃথিবী গড়ি"

Friday, August 19, 2022

গ্রামবাংলার ঐতিহ্য



গ্রামবাংলার ঐতিহ্য


গ্রামবাংলার ঐতিহ্য

 উত্তর জনপদের শষ্য ভান্ডার খ্যাত নাটোর লালপুর কৃষিতে দিন দিন যুক্ত হচ্ছে উন্নত প্রযুক্তি। ফলে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে মানব সভ্যতার সোনালী অতীত-ঐতিহ্য গ্রাম-বাংলার সেই চিরচেনা গরু-লাঙ্গল দিয়ে জমি চাষের দৃশ্য। উত্তর জনপদে লাঙ্গল দিয়ে জমি চাষ এখন শুধুই স্মৃতি।


এক সময় দেখা যেত সেই কাক ডাকা ভোরে কৃষকরা গরু ও কাঁধে লাঙল-জোয়াল নিয়ে বেরিয়ে যেত মাঠের জমিতে হালচাষ করার জন্য। বর্তমানে আধুনিকতার স্পর্শে ও বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কারের ফলে কৃষকদের জীবনে এসেছে নানা পরিবর্তন। আর সেই পরিবর্তনের ছোঁয়াও লেগেছে কৃষিতে। তাই আর সকালে কাঁধে লাঙল-জোয়াল নিয়ে মাঠে যেতে আর দেখা যায় না কৃষকদের।

কৃষি প্রধান বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে লাঙল, জোয়াল। আধুনিকতার ছোঁয়ায় হাল চাষের পরিবর্তে এখন ট্রাক্টর অথবা পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করা হয়। এক সময় দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে কৃষক গরু, মহিষ পালন করত হাল চাষ করার জন্য। আবার অনেকে গবাদিপশু দিয়ে হাল চাষকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে ছিলেন। আবার অনেকে,আখ,পাট, ধান গম, ভুট্টা, তিল, সরিষা, কলাই, আলু প্রভূতি চাষের জন্য ব্যবহার করতেন।

নিজের সামান্য জমির পাশাপাশি অন্যের জমিতে হাল চাষ করে তাদের সংসারের ব্যয়ভার বহন করত। হালের গরু দিয়ে দরিদ্র মানুষ জমি চাষ করে ফিরে পেত তাদের পরিবারের সচ্ছলতা। আগে দেখা যেত কাকডাকা ভোরে কৃষক গরু, মহিষ, লাঙল, জোয়াল নিয়ে মাঠে বেড়িয়ে পড়ত। এখন আর চোখে পড়ে না সে দৃশ্য। জমি চাষের প্রয়োজন হলেই অল্প সময়ের মধ্যেই পাওয়ার টিলারসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে চালাচ্ছে জমি চাষাবাদ। তাই কৃষকরা এখন পেশা বদলি করে অন্য পেশায় ঝুঁকছেন। ফলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে গরু, মহিষ, লাঙল, জোয়াল দিয়ে জমিতে হাল চাষ।

হাল চাষের জন্য দরকার হতো ১ জোড়া বলদ, কাঠের তৈরি লাঙল, বাঁশের তৈরী জোয়াল, মই, লরি (বাঁশের তৈরি গরু তাড়ানোর লাঠি), গরুর মুখে টোনা ইত্যাদি।
আগে গরু দিয়ে হাল চাষ করলে জমিতে ঘাস কম হতো। অনেক সময় গরুর গোবর জমিতে পড়ত, এতে করে জমিতে অনেক জৈবসার হতো। ক্ষেতে ফলন ভালো হতো। এখন নতুন নতুন আধুনিক বিভিন্ন মেশিন এসেছে সেই মেশিন দিয়ে এখানকার লোকজন জমি চাষাবাদ করে। তাই এখনো গরু, মহিষ, লাঙল, জোয়াল নিয়ে জমিতে হাল চাষ করা এখন হারিয়ে যেতে বসেছে।

গরুর লাঙল দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৬৬ শতাংশ জমি চাষ করা সম্ভব। আধুনিক যন্ত্রপাতির থেকে গরুর লাঙলের চাষ গভীর হয়। জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি ও ফসলের চাষাবাদ করতে সার, কীটনাশক কম লাগতো। দিনে দিনে এভাবেই ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের গ্রামবাংলার ঐতিহ্য।

BY



Monday, August 15, 2022

ধানে নতুন এক ধরনের রোগ

 

বাংলাদেশের ধানে নতুন এক ধরনের রোগ দেখা যাচ্ছে

রোগটি হলো-
ধানের ব্যাকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট
(Bacterial Penicle Blight)
রোগের কারনঃ
Burkholderia Glumae নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া। ব্যাকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট ব্যাকটেরিয়া জনিত দানা পঁচা রোগ বা দানা পঁচা নামেও পরিচিত।
ব্যাকটেরিয়াটি হলুূদ পিগমেন্টেড বিষাক্ত টক্সোফ্লাভিন উপাদান নিঃসৃত করে ফলে এই রোগ ছড়ায় এছাড়া আদ্রর্তা ৮০ শতাংশের বেশি খুব ঘন আকারে চারা রোপন ও অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার প্রয়োগের ফলে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়।
রোগের লক্ষণঃ
Bacterial Penicle Blight
( ব্যাকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট)
এই রোগ কোন পুর্ব সতর্কতা ছাড়াই লক্ষণ গুলির উপস্থিতি দেখা যায়। শিষের ছোট ছোট ধানগুলো সঠিকভাবে দানা বাধতে পারেনা এবং চিটা হয়ে যায় তবে শিষের সকল দানা কিন্তু চিটা হয়না। আক্রান্ত ধানের দানা গুলো ধুসর/ কালো/ গোলাপি রঙ ধারন করে।

শিষে চিটা হওয়ার ফলে দানায় কোন ওজন থাকেনা ফলে আক্রান্ত শিষ খাড়া হয়ে থাকে। সংক্রমিত শীষের নীচের অংশ সবুজ থাকে। মাঝে মাঝে খোলপচা বা চারা ঝলসানো রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। ক্ষেতের
বিভিন্ন জায়গায় গোলাকার বা ডিম্বাকৃতি জায়গায় এক বা একাধিক গাছে এই রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
Bacterial Penicle Blight
(ব্যাকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট)
কিভাবে ছড়ায়ঃ ব্যাকটেরিয়াগুলো ধানগাছের পাতা এবং খোলে অবস্হান করে এবং তারা প্রতিকুল পরিবেশেও সক্রিয় ভাবে বেঁচে থাকতে পারে। ধান গাছ বড় হওয়ার সাথে সাথে ব্যাকটেরিয়াগুলো গাছের উপরের দিকে উঠতে থাকে। ব্যাকটেরিয়াটি ধানের শীষ বের হওয়ার সাথে সাথে শীষে আক্রমণ করে। ফুলে রেনুগুলো নষ্ট করে পরাগায়নে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে ফলে ধানের দানা গুলো চিটায় পরিনিত হয়। ব্যাকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট সাধারনত গরম ও শুষ্ক আবহাওয়াতে বেশি ছড়ায়। যখন দিনের তাপমাত্রা ৩২ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি রাতের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে এই রকম আবহাওয়াতে রোগ ছড়ানোর উপযুক্ত। এছাড়া অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার প্রয়োগের ফলে এ রোগের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে।

Bacterial Penicle Blight
(ব্যাকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট)
বাহকঃ ব্যকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট একটি বীজ বাহিত রোগ। রোগাক্রান্ত বীজ হতে চারা উৎপাদন করে আবাদ করলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণের বাস্তবিক কোন উপায় নেই।
Bacterial Penicle Blight (BPB)
ব্যাকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট(বি পি বি)
দমনে সমন্বিত বালাই ব্যাবস্হপনাঃ
১. আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি যেমন বীজ শোধন করার বিকল্প নেই।
২. বীজ বপনের পুর্বে ৫/৬ দিন কড়া রোদে শুকিয়ে নেওয়া।
৩. অক্সালিনিক এসিড/ ট্রাইকোডার্মা দিয়ে বীজ শোধন করা।
৪.রোগ প্রতিরোধী জাতের চাষাবাদ করা। জাপান ৯টি ও আমেরিকা ৬ ধান গবেষণা কেন্দ্র BPB প্রতিরোধী ধানের জাত উদ্ভাবন করছে।
৫. অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার ব্যাবহার না করা।
৬. কপার অক্সিক্লোরাইড/ কপার হাইড্রোঅক্সাইড জাতীয় বালাইনাশক প্রয়োগ করা যেতে পারে।

Wednesday, August 10, 2022

আগাম ফুলকপি চাষের জমি প্রস্তুত প্রনালি

 
আগাম ফুলকপি চাষের জমি প্রস্তুত প্রনালি

আগাম ফুলকপি চাষের জমি প্রস্তুত প্রনালি।

যারা এই সময় আগাম জাতের ফুলকপি /বাধাকপি চাষ করতে চাচ্ছেন তারা দ্রুত জমি প্রস্তুত করে নিয়ে বেড তৈরি করে ফেলুন,তাহলে বৃষ্টি হলেও চারা রোপন করতে পারবেন খুব সহজেই।
ভাল ভাবে ৩-৪ টি চাষ ও মই দিয়ে জমি ফিনিশিং দিয়ে নিতে হবে,প্রথম চাষের সময় গোবর বা ভার্মিকম্পোস্ট সার ছিটিয়ে দিতে হবে।শেষ চাষের সময় প্রদত্ত সার গুলো ছিটিয়ে দিয়ে ফাইনাল চাষ দিবেন।
৩৩ শতাংশ জমির জন্য~

টিএস পি ৫০ কেজি
এমও পি ৩৫ কেজি
জিপসার ১০ কেজি
বোরন ১-২ কেজি
ম্যাগ্নেশিয়াম সালফেট -২ কেজি
দানাদার কীটনাশক ২ কেজি।
দস্তা ১.৫ কেজি (বেড তোলার আগে)

বেডের সাইজ
লাইন-লাইন- ২৩/ ২৪ ইঞ্চি
চারা থেকে চারা ১৬-ইঞ্চি (আগাম জাতের জন্য)
বেড তুলে অন্তত ২-৩ দিন রেখে দিবেন যেন মাটিটা বসে যায়,এতে চারা রোপন করলে চারা কম কাটবে।
পরিশেষে ২৫ দিনের সুস্থ সবল কোকোপিট এর চারা,না পেলে মাটির বেডের চারা রোপন করে দিবেন। চারা রোপনের ২ দিন পর পর্যন্ত সকাল বিকাল পানি দিবেন (যদি বৃষ্টি না হয়), তারপর ঢালা শেষ দিয়ে দিতে হবে।
চারা রোপন এর ১৫-দিন পর প্রথম ডোজ সার দিয়ে দিতে হবে।
এটি আমার নিজস্ব চাষাবাদ পদ্ধতির আলোকে লিখলাম,জায়গা,অঞ্চল,মাটি ভেদে সারের মাত্রা কম বেশি হতে পারে।


Saturday, July 30, 2022

কুমড়া গোত্রীয় ফসলের বংশবিস্তার

 
কুমড়াগোত্রীয় ফসলের বংশবিস্তার

কুমড়া গোত্রীয় ফসলের বংশবিস্তার


সাধারণত যৌন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কুমড়াগোত্রীয় ফসলের বংশবিস্তার হয়ে থাকে। কিন্তু বেশির ভাগ কুমড়াগোত্রীয় ফসলের ফুল অসম্পূর্ণ হওয়ায় পরাগায়নের জন্য অন্য মাধ্যম যেমন কীটপতঙ্গের প্রয়োজন হয়। পরাগায়ন ঠিকমতো না হলে ফল শুকিয়ে পঁচে বা ঝরে গিয়ে প্রায় ৯৫% ফলন কমে যেতে পারে। তখন হাত পরাগায়নের মাধ্যমে কৃত্রিম উপায়ে পরাগায়ন করিয়ে দিতে হয়। এজন্য কুমড়াগোত্রীয় ফুল কখন ফোটে এবং হাত পরাগায়ন কখন করতে হয় সে বিষয়ে আমাদের জানা প্রয়োজন।

শসা

শসার পুরুষ ফুল ফোটা বা বন্ধ হওয়া দিনের আলোর দৈর্ঘ্যরে সাথে সম্পর্কযুক্ত। পুরুষ ফুল সাধারণত সকালে ফোটে এরং পরাগরেণু দুপুর ২.০০টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ কর্মক্ষম থাকে এবং বেলা বাড়ার সাথে সাথে নিস্ক্রিয় হতে থাকে। শশার স্ত্রীফুলও সকালে ফোটে তবে ফুল ফোটার ২ ঘণ্টার মধ্যে পরাগায়ন করতে হবে। কেননা গর্ভমুন্ডে খুব কম সময়ের জন্য কর্মক্ষম থাকে।


করলা

করলার ফুল ভোর ৪.০০টা থেকে সকাল ৭.৩০টা এর মধ্যে ফুটতে শুরু করে এবং সকাল ৬.০০ টা থেকে সকাল ৯.৫৫টা পর্যন্ত সম্পূর্ণরূপে ফুটে যায়। পুরুষ ফুলের পরাগধানী সকাল ৬.০০টা থেকে সকাল ৮.৫৫টা পর্যন্ত পরাগরেণু উন্মুক্ত করে। তাই সকাল ৬.০০টা থেকে সকাল ৯.০০টার মধ্যে করলার কৃত্রিম পরাগায়ন করতে হবে। গর্ভমুÐের ধারণক্ষমতা সাধারণত ফুল ফোটার ৮ ঘণ্টা আগে থেকে ফুল ফোটার ১২ ঘণ্টা পর পর্যন্ত সক্রিয় থাকে।

লাউ

লাউ ফসলের ফুল সকাল ৯.০০টা থেকে ফুটতে শুরু করে এবং বিকাল ৪.০০টা থেকে রাত ৮.০০টার মধ্যে সম্পূর্ণ ফুল প্রস্ফুটিত হয়। পরাগধানী সকাল ১১.০০টা থেকে ২.০০টার মধ্যে পরাগরেণু উন্মুক্ত করে। লাউ ফুল ফোটার পর অল্প সময় খোলা থাকে ফলে লাউয়ের পরাগায়ন বিকাল ৪.০০টা থেকে সন্ধ্যা ৭.০০টার মধ্যে করতে হবে।
আরেকটি সুস্বাদু ফল খরমুজের ফুল ফোটার সময় সকাল ৫.৩০টা থেকে সকাল ৬.৩০টা।পরাগধানী সাধারণত সকাল ৫.০০টা থেকে ৬.০০টার মধ্যে পরাগরেণু উন্মুক্ত করে এবং রেণু সকাল ৫.০০টা থেকে দুপুর ২.০০টা পর্যন্ত কর্মক্ষম থাকে। গর্ভমুÐের ধারণক্ষমতা ফুল ফোটার ২ ঘণ্টা আগে থেকে ৩ ঘণ্টা পর পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। ফলে খরমুজের কৃত্রিম পরাগায়ন সকাল ৫.০০টা থেকে সকাল ৮.০০টার মধ্যে করতে হবে।

পটোল

পটোলের ফুল সাদা। পটোলের পুরুষ এবং স্ত্রী গাছ আলাদা। পটোল একটি উচ্চমাত্রার পর-পরাগায়ন ফসল। এজন্য স্ত্রী এবং পুরুষ গাছের অনুপাত হতে হবে ৯:১ অথবা ১০:১। পুরুষ ফুল স্ত্রী ফুলের ১৫ থেকে ২৯ দিন পর জন্মায়। তাই পুরুষ গাছ স্ত্রী গাছের চেয়ে ১৫-২০ দিন আগে রোপণ করতে হয়। পটোল ফুলের কৃত্রিম পরাগায়ন ভোর ৫.০০টা থেকে সকাল ৮.০০টার মধ্যে করতে হয়।

ঝিঙে

ঝিঙে ফুল বিকালের দিকে ফোটে। ফুল ফোটার সময় সাধারণত বিকাল ৫.০০টা থেকে রাত ৮.০০টার মধ্যে। পরাগধানী পরাগরেণু বিকাল ৫.০০টা থেকে ৮.০০টা এর মধ্যে উন্মুক্ত করে। পরাগরেণুর কর্মক্ষমতা ফুল ফোটার দিন সবচেয়ে বেশি থাকে এবং ২-৩ দিন পর্যন্ত এটা স্থায়ী হয়। গর্ভমুন্ডের ধারণক্ষমতা ফুল ফোটার ৬ ঘণ্টা আগে থেকে ফুল ফোটার ৮৪ ঘণ্টা পর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। তবে ফুল ফোটার দিন বিকাল ৫.০০টা থেকে রাত ৮.০০টার মধ্যে ঝিঙে ফুলের পরাগায়ন করিয়ে দিতে হবে।

চিচিঙ্গা

সন্ধ্যা ৭.০০টা থেকে রাত ৮.০০টার মধ্যে ফুটতে শুরু করে চিচিঙ্গা ফুল এবং স্ত্রী ফুল ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণ ফুটে যায়। পুরুষ ফুলের ফুটতে ১৯ মিনিট থেকে ৩৩ মিনিট সময় লাগে। বিকাল ৪.০০টা থেকে ৫.০০টার মধ্যে পরাগধানী ফাটতে শুরু করে এবং ৩ ঘণ্টার মধ্যে অর্থাৎ সন্ধ্যা ৭.০০টা থেকে রাত ৮.০০টার মধ্যে পরাগরেণু উন্মুক্ত হয়। চিচিঙ্গা ফুলের কৃত্রিম পরাগায়ন সকাল ৬.০০টা থেকে সকাল ৯.০০ টার মধ্যে করতে হবে।

কাঁকরোল

কাঁকরোলের পুরুষ এবং স্ত্রী ফুল আলাদা গাছে ধরে এবং পুরুষ গাছে কুড়ি ধারনের ১৫দিন পরে ফুল ফোটে এবং স্ত্রী গাছে ফোটে ১০ দিন পর। তাই পুরুষ গাছ আগে লাগাতে হয়। কাঁকরোল পুরুষ ফুল ভোর ৪.০০ টার সময় ফুটতে শুরু করে। স্ত্রী ফুল সকাল ৬.০০টা থেকে ৬.২০টার মধ্যে ফুটতে শুরু করে। সকাল ৫.০০টা থেকে ৬.০০টার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফুল ফোটে। ফুল ফোটার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরাগায়ন করলে ৬৪% পর্যন্ত ফল ধারণ করে। ১২ ঘণ্টার উপরে গেলে ফল ধারণ ১৭% এর নিচে চলে আসে। এজন্য ফুল ফোটার সাথে সাথে পরাগায়ন করে দিতে হবে।

মিষ্টি কুমড়া

মিষ্টি কুমড়া ফুল ভোর ৩.০০টা থেকে ভোর ৪.০০টা পর্যন্ত ফুটতে শুরু করে এবং ভোর ৫.০০টা থেকে ৬.০০ টার মধ্যে সর্বোচ্চ ফুল ফোটে। ফুল সাধারণত ৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিট ফুটন্ত অবস্থায় থাকে। ফুটন্ত ফুল সকাল ৮.০০টা থেকে বন্ধ হওয়া শুরু করে এবং ১১.০০টার মধ্যে সম্পূর্ণ ফুল বন্ধ হয়ে যায়। এজন্য মিষ্টি কুমড়ার কৃত্রিম পরাগায়ন সকাল ৮.০০টার মধ্যে করতে হবে।


চাল কুমড়া

চাল কুমড়ার পুরুষ ফুল সাধারণত ভোর ৪.৩৩টা থেকে ভোর ৪.৪৫টা নাগাদ ফুটতে শুরু করে এবং ২০ মিনিট থেকে ৩০ মিনিট এর মধ্যে সম্পূর্ণ ফুল ফুটে যায়। স্ত্রী ফুল ভোর ৪.২০টা থেকে ভোর ৪.৩০টা নাগাদ ফুটতে শুরু করে এবং ২০ মিনিট থেকে ২৫ মিনিট এর মধ্যে সম্পূর্ণ ফুল ফুটে যায়। পরাগধানী সাধারণত রাত ১.৪৫টা থেকে ২.৪০টা এর মধ্যে ফাটতে শুরু করে এবং গর্ভমুন্ডের ধারণক্ষমতা ফুল ফোটার ৬ ঘণ্টা আগে থেকে শুরু করে ১৬ ঘণ্টা পর পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। পরাগরেণু ফুল ফোটার ২০ ঘণ্টা পর পর্যন্ত সজীব থাকে। চাল কুমড়ার কৃত্রিম পরাগায়ন সকাল ৯.০০টার মধ্যে করতে হয়।

তবে কৃত্রিম পরাগায়নের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে সেটি হচ্ছে পুরুষ এবং স্ত্রী ফুল দুটি যেন একই সময় ফুটেছে এমন ফুল নির্বাচন করা হয়। বড় ক্ষেত হলে স্প্রে মেশিনে পানি নিয়ে পরাগরেণু মিশিয়ে স্প্রে করা অথবা ড্রপার দিয়ে ফুলে পানির ফোটা দেয়া। তাহলে ফল ধারণ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া যদি ১০ লিটার পানিতে ২০ গ্রাম পাথুরে চুন এবং ৩ গ্রাম বোরন সার মিশিয়ে পরপর ৩ দিন বিকালে গাছের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত সম্পূর্ণ ভিজিয়ে দেয়া হয় তাহলে পুরুষ ফুলের সংখ্যা কমে যাবে স্ত্রী ফুলের সংখ্যা বেড়ে যাবে এবং ফলন বৃদ্ধি পাবে।

কাজেই আমরা যদি সঠিক সময় নির্ধারণ করে কুমড়াগোত্রের ফসলগুলোর কৃত্রিম পরাগায়ন করতে পারি তাহলে অধিক ফলন পাবো এবং আর্থিকভাবে আমাদের কৃষক ভাইয়েরা লাভবান হবেন।



Friday, July 22, 2022

সেলস, টেরিটরি, মার্কেটিং, প্রমোশন অফিসারের দায়িত্ব ও কর্তব্য


সেলস, টেরিটরি, মার্কেটিং, প্রমোশন অফিসারের  দায়িত্ব ও কর্তব্য

সেলস, টেরিটরি, মার্কেটিং, প্রমোশন অফিসারের দায়িত্ব ও কর্তব্য


 * মাসিক সভায় যোগ দেওয়।

* গ্রাহক এবং ডিলারদের সাথে নিয়োমিত যোগাযোগ করা।

* গ্রাহক এবং ডিলারের সাথে সু-সম্পর্ক বজায রাখা।

* গ্রাহক এবং ডিলারের একটি শক্তিশালী ডেটা বেস তৈরি করা।

* বসের কাছে বিভিন্ন দৈনিক ও মাসিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া।

* বিপণন কৌশল বাড়াতে অবদান রাখা।

* ব্র্যান্ড বাড়াতে বিপণন কার্যক্রম বা ইভেন্ট গুলির সংগঠিত করা এবং অংশগ্রহণ করা।

* কোম্পানির বিক্রয় কার্যক্রম, পরিকল্পনা এবং পদ্ধতি সম্পাদন করা।



* পণ্য প্রচার, মিটিং, ডেমো, কৃষক পরিদর্শন, মাঠ পরিদর্শন এবং বাজার ব্যবস্থা উন্নত করতে বিপণন দলকে সহায়তা করা।

* বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং পাশাপাশি একটি নতুন লক্ষ্য তৈরি করা।

* পণ্য জ্ঞান এবং বিক্রয় কৌশল সম্পর্কে আপডেট রাখা।

* ম্যানেজমেন্টের বা বসের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের অন্য কোন কার্যক্রম করা।

* বসের সাথে সর্বদা যোগাযোগ রাখা ।

* যে কোন প্রয়োজনে আগে রিপোটিং বসকে বলা।

Monday, July 18, 2022

ছত্রাকজনিত রোগ

ভাইরাল রোগ


ভাইরাল রোগ

এফিডগুলি বিন কমন মোজাইক ভাইরাস (বিসিএমভি), বিন কমন মোজাইক নেক্রোসিস ভাইরাস (বিসিএমএনভি), এবং বিন ইয়েলো মোজাইক ভাইরাস (বিওয়াইএমভি) বহন করে, যা বীজের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হতে পারে। BCMV বিভিন্ন উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে। গাঢ় এবং হালকা সবুজ নিদর্শন flecked সঙ্গে পাতা; পাতা বিকৃত হতে পারে; পাতায় হলুদ দাগ দেখা যেতে পারে; গাছের বৃদ্ধি মন্থর হতে পারে। ভাইরাসটি সারা বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন ফসল, শোভাময় এবং আগাছায় পাওয়া যায়।


ছত্রাকজনিত রোগ

সারকোস্পোরা পাতার দাগ

Cercospora Leaf Spot সারকোস্পোরা sp জীব দ্বারা সৃষ্ট হয়। এটি গাছের নীচের পাতায় অমসৃণ, ট্যান বিন্দু হিসাবে প্রদর্শিত হয়। অত্যধিক পাতা ঝরা এবং গাছের ক্ষয় একটি গুরুতর অসুস্থতার লক্ষণ। দীর্ঘায়িত বৃষ্টি, উচ্চ আর্দ্রতা এবং 75 থেকে 85 ফারেনহাইট তাপমাত্রার কারণে সংক্রমণ আরও খারাপ হয়। রোগমুক্ত বীজ দিয়ে রোপণ করা উচিত। ফসল কাটার পরে, বাগান থেকে সমস্ত আবর্জনা সরিয়ে ফেলুন। দুই থেকে তিন বছরের জন্য, একই জায়গায় শিম লাগাবেন না। বাড়ির বাগানে, এই রোগের জন্য কোন প্রতিরোধী প্রকার বা সুপারিশকৃত রাসায়নিক নেই

Friday, July 8, 2022

মাছের ফুলকা পঁচা রোগ

 

মাছের ফুলকা পঁচা রোগ


মাছের ফুলকা পঁচা রোগ


আক্রান্ত মাছ: কার্প জাতীয় মাছ। পোনা মাছে এ রোগ বেশি দেখা দেয়।



রোগের কারণ:* সাধারণত গ্রীষ্মকালে পুকুরের পানি কমে গেলে ব্রস্কিওমাইসিস নামে এক জাতীয় ছত্রাক মাছের ফুলকায় বাসা বাঁধে এবং রক্তবাহী শিরাগুলি বন্ধ করে দেয়।

* পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে এ রোগ দেখা দেয়।

* অধিক ঘনত্ব, তলদেশে জৈব পদার্থ জমা হওয়ায় দূষণের ফলে এ রোগ হয়।


রোগের লক্ষণ: 

* রক্ত জমাট হয়ে ফুলকা ফুলে যায়।

* ফুলকা চিরুনির উপর লাল ছিট ছিট দাগ দেখা যায়। পরবর্তীকালে এগুলি ঈষৎ ধূসর সাদা রঙের এবং ফুলকার গোড়ার হাড়টুকু বাদ দিয়ে পুরো ফুলকাটি খসে পড়ে।

* অনেক তরল পদার্থ বের হওয়া।

* মাছের শ্বাস কষ্ট হওয়া* শরীরের মিউকাস কমে যাওয়া।

* স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য থাকে না।* রক্তশূন্যতা এবং রং ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া।



প্রতিরোধ ও প্রতিকার:

* পুকুরের পানি দ্রুত পরিবর্তন করা ও সার ও খাবারের পরিমান কমিয়ে দেওয়া সেই সাথে লক্ষ্য রাখবেন যেন পুকুরে কোন জৈব পদার্থ জমতে না পারে ।

* ২.৫% লবণ পানিতে বা ৫ পিপিম পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দ্রবণে আক্রান্ত মাছকে ১ ঘণ্টা গোসল করাতে হবে।

* প্রতি কেজি খাবারের সঙ্গে ১-২ গ্রাম অক্সিটেট্রাসাইক্লিন মিশিয়ে ৫-৭ দিন খাওয়াতে হবে।

* শতাংশে ৫০০ গ্রাম হারে পাথুরে চুন পুকুরে প্রয়োগ করে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

বিস্তারিত জানার জন্য আপনার নিকটস্থ উপজেলা মৎস্য দপ্তরে যোগাযোগ করুন।

Saturday, July 2, 2022

চাল


 

চাল

বর্তমানে আমাদের অসংখ্য রোগের নেপথ্য কারন চাল। সবাইকে ভাত কম খেতে বলা হয়, ডায়াবেটিস হলে খুবই কম খেতে বলা হয়। আমাদের পূর্বপুরুষদের প্রধান খাদ্য ছিল ভাত কিন্তু তারা আমাদের মতো বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতো না। তাই আজকের আলোচনা চাল নিয়ে।

চালে প্রায় ১২% জল, ৭৫-৮০% কার্বোহাইড্রেট, ৪ থেকে ৯% প্রোটিন এবং প্রায় ০.২ থেকে ০.৯% ফ্যাট থাকে।

চালের উপরের স্তরে ফাইবার, ভিটামিন, পলিফেনল, মিনারেল, অ্যান্টি_নিউট্রিয়েন্ট প্রভৃতি থাকে। চালে ফাইবার প্রায় শূন্য ( বাজারের সাধারণ চাল) থেকে শুরু করে ১.৬ % ( ব্রাউন রাইস) পর্যন্ত হতে পারে। এই স্তরেই প্রোটিন ও ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে। চালের যতো ভিতরে যাওয়া যায় ততই প্রোটিন ও ফ্যাটের পরিমাণ কমে এবং কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বাড়ে।

এখন চালের গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স নিয়ে আলোচনা করা যাক। চালের গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স মাত্র ৩৯ থেকে শুরু করে ৮৪ ও হতে পারে। চালের কার্বোহাইড্রেটের স্টার্চ দুই রকমের অ্যামাইলোজ ও অ্যামাইলোপেকটিন। চালের গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স এই অ্যামাইলোজের উপর নির্ভরশীল, অ্যামাইলোজ বাড়লে গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স কম হয়। চালে অ্যামাইলোজ ২% ( স্টিকি বা আঠালো ভাত) থেকে ২৭% পর্যন্ত হতে পারে। তাই যে ভাত ঝরঝরে তার গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স কম হয়। যে চালে অ্যামাইলোজ বেশি থাকে সেগুলো সাধারণত লম্বা হয় কিন্তু সর্বদা সঠিক নয়।



ধান সিদ্ধ করলে ফাইবারের স্তর থেকে মিনারেল, ভিটামিন, পলিফেনল, লিপিড ( ফ্যাট) প্রভৃতি চালের ভিতরের দিকে চলে যায় অর্থাৎ চালের পুষ্টিগুণ বাড়ে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে অ্যামাইলোজ ও লিপিডের বন্ধনের ফলে গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স অনেক কম হয়ে যায়। এছাড়াও ধান সিদ্ধ করার জন্য ক্ষতিকর অ্যান্টি নিউট্রিয়েন্ট কিছুটা কমে যায়। তাই আতপ চালের তুলনায় সিদ্ধ চাল অনেক ভালো। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হয়ে সিদ্ধ করার আগে ধানকে কমপক্ষে ২৪ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে যাতে জল ধানের একদম ভিতরের স্তরেও পৌঁছাতে পারে।

যেকোন বীজকে জার্মিনেশন করলে তাতে অ্যান্টি নিউট্রিয়েন্ট একদম কমে যায় এবং কিছু উপকারী যৌগ তৈরি হয়। তাই যদি ধানকে জার্মিনেশনে রেখে কল বের হওয়া শুরু হতেই সিদ্ধ করা হয় তাহলে খুবই ভালো হয়।

চালে ফাইবারের পরিমাণ বাড়লে গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স কম হয়। এছাড়াও পলিফেনল, ভিটামিন, প্রোটিন, ফ্যাট, মিনারেলস আমাদের আমাদের শরীরের জন্য খুবই জরুরি। তবে এইসবের পরিমাণ অনান্য খাদ্যশস্যের তুলনায় কম। জৈব পদ্ধতিতে চাষ করলে চালের মধ্যে এইসব উপাদান বৃদ্ধি পায় এবং আর্সেনিকের পরিমাণ কম হয়।

ছোটবেলায় একজনের কাছে ভাতের বর্ণনা শুনেছিলাম -- "গাবের বীচির মতো শক্ত, ঝরঝরে ও একবার খেলে সারাদিন খিদে পায় না "। এর অর্থ হচ্ছে এই চালের গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স খুবই কম।
তাই সবচেয়ে ভালো চাল হচ্ছে যাতে অ্যামাইলোজ বেশি আছে ( অর্থাৎ ঝরঝরে ভাত, বিন্দুমাত্র আঠালো নয়), ফুল ফাইবার, উপরে লেখা জার্মিনেশন পদ্ধতি অনুসরণ করা ও সিদ্ধ চাল।



এছাড়াও ভাত বানানোর পরে ফ্রিজে রেখে বা এমনিই ঠান্ডা করলে গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স কম হয়।
এই ধরনের চাল ডায়াবেটিস রোগীরা খেতে পারে। তবে চালের পুষ্টিগুণ সমস্ত খাদ্যশস্যের মধ্যে কম তাই অনান্য ধরনের খাদ্যশষ্যও গ্রহণ করা উচিত। বর্তমানে ডায়াবেটিস এর একটা অন্যতম কারন গমের গ্লুটেন ( কালো গমে গ্লুটেন নেই) । তাই এই ধরনের চাল, বিভিন্ন মিলেট ও কালো গম লোকজন খেলে শরীর ভালো থাকবে। উপরে লেখা পদ্ধতি অনুসারে তৈরি করা বাসমতী চালের গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স বিভিন্ন চালের মধ্যে সবচেয়ে কম।

বাংলার অন্যতম সমস্যা ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহারের কারনে জমির মাটিতে বছরের পর বছর আর্সেনিক জমা হওয়া এবং সেটা বিভিন্ন ফসলের মাধ্যমে শরীরে ঢোকা। যেহেতু ফাইবারের স্তরে আর্সেনিক সবচেয়ে বেশি থাকা তাই এইসব অঞ্চলে উৎপাদিত ধানের চালে ফাইবার রাখলে সেটা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাই বর্ষাকাল ছাড়া সর্বত্র ধানচাষ নিষিদ্ধ করাই একমাত্র উপায়।


Rashed Hasan

Jhenida, Dhaka, Bangladesh


Last post

ড্রাগন ফলের পরিচয়

  উৎপত্তি ও ভৌগলিক বিস্তৃতিসহ ড্রাগন ফলের পরিচয়     " ড্রাগন ফল " বা ড্রাগন ফ্রুট অসমৃদ্ধ এবং বিশেষ রূপের ফল , য...