Friday, May 28, 2021

ছাদকৃষি টিপস

 ছাদকৃষি।


টিপস।


এক। মাটির সাথে অবশ্যই কিছু কোকোপিট মিশাবেন।গাছের গোড়া শ্যাত শ্যাতে হতে দিবেন না।

দুই। গাছের জন্য বিরিয়ানি হলো শরিষার খইল পচা পানি। সাত দিন বা পনের দিনে একবার দিন।

তিন।মাটি রেডি করার সময় কিছুটা বায়োডামা সলিট দিবেন।


চার। যাই লাগান। ভালো জাতের বীজ কিনা সিওর হয়ে নিবেন। নতুবা সব পরিশ্রম বেলা শেষে জলে যাবে।

পাচ। গাছ পাতলা করে লাগাবেন। একটি ফলের ক্রেটে মাত্র দুটি গাছ। ক্রেটে পানি নিষ্কাসন এর ব্যবস্থা রাখবেন।

ছয়।ফলের ক্রেটের চারপাশে লাঠি বেধে সহজে মাচা দেয়া যায়।


সাত। প্রতি সাত দিনে একবার সব গাছের পাতায় নিম কীটনাশক স্প্রে করবেন।

আট। ডাটা,পুইশাক, লালশাক,ধনেপাতা এসব লাগাবেন। ২৫ দিনে খেতে পারবেন। লালশাক লাগালে নেট দিবেন। ছবি দেখুন। শাকপাতা লাগালে দ্রত আউটপুট পাবেন। যা আপনাকে প্রেরনা দিবে। পুইশাক গাছের পাতায় দাগ হলে পাতা কেটে দিন।অথবা ছত্রাক নাশক স্প্রে করেন।অথবা গাছ উঠিয়ে আবার লাগান।


নয়। ফুল আসার পরে প্রানোফিক্স অথবা মিরাকুরান গাছের পাতায় শেষ বিকালে স্পে করবেন। বাসায় দুইটি গ্রুপের ছত্রাক নাশক রাখবেন। ১৫ দিনে একবার স্প্রে করবেন।  এগরোমিন্ড গোল্ড অনুখাদ্য বা অন্য কোন অনুখাদ্য বাসায় রাখবেন। মাঝে মাঝে স্প্রে করে দিবেন।


দশ। পানি বেশি বা কম দিবেন না। যতটুকু লাগে ঠিক ততটুকু দিবেন। 

এগার। গাছের পাতার নিচে খেয়াল করবেন।বেগুন গাছের পোকা মারার জন্য সেক্স ফোরেমান ফাদ লাগাবেন।


বার। রসুন আর লবঙ্গ বেটে সে পানি স্প্রে করুন।

তের। গাছের নিচের দিকের বুড়ো হলুদ পাতা ফেলে দিবেন। মরিচ গাছে দশ দিন পর পর ডায়মেথট গ্রুপের কীটনাশক দিবেন। 


তের। প্রতিদিন নিয়ম করে গাছ কে কিছুটা সময় দিবেন। কোন গাছে কেন সফল হচ্ছেন না সেটা নিজেই খুজে বের করুন।


প্রচুর ইউটিউব ভিডিও দেখুন। বিশেষ করে রাজ গাডেনস,ফারমিং এডভাইজার অনাথ হালদার এর ভিডিওগুলো। এরা খুব সহজ ভাষায় প্রাকটিক্যাল কাজ করে দেখান।


ধন্যবাদ। আপনার জন্য শুভকামনা।


শফিক,মিরপুর ১২,ঢাকা

শসা ও তরমুজ চাষ অসময়ে

 শসা,তরমুজ চাষ অসময়ে ? 

তরমুজ



শসা চাষের উপযুক্ত সময় হচ্ছে ফেব্রুয়ারি - মার্চ। শীতের পর পরই কৃষকরা জমি প্রস্তুত করতে থাকে, বিশেষ করে রমজান মাসকে কেন্দ্র করে তারা দেশি শসা, করলা, তরমুজ ইত্যাদি বানিজ্যিক চাষ শুরু করে। এসময়ে ভালো দামও পাওয়া যায়। যেমন বর্তমান বাজারে শসা ৬০ টাকা কেজি। আবার কপাল মন্দ থাকলে ঠিক উল্টোটা হয়। তবে অসময়ে যেকোনো সবজির দাম থাকে আকাশ ছোয়া, যদি প্রাকৃতিক দূর্যোগে না পরে। অসময়ে এক কেজি শসার দাম থাকে ৯০-১০০ টাকা, তরমুজ ৮০ -১২০ টাকা। আরো বেশিও থাকে। 


জাত-  অসময়ে চাষ করার ক্ষেত্রে উচ্চ ফলনশীল বারোমাসি বীজ প্রয়োজন। 

জমি - চাষের জমিতে যেন বৃষ্টির পানি না জমে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। 

এবং মাচা তৈরি করতে হবে। 


দেশি নাকি থাই বীজ? 


আমাদের দেশীয় বারোমাসি বীজগুলোর চেয়ে থাই বীজে তুলনামূলক ভালো জার্মিনেশন হয় এবং ভালো ফলনও হয়। 

যেমন এ বছর রমজানকে কেন্দ্র করে আমার কাকা দেশি শসা চাষ করে,ফলন মাশাআল্লাহ মোটামুটি ভালো হয়েছে। তবে জার্মিনেশন ছিলো খুবই খারাপ৷ চারা হওয়ার পরও নষ্ট হয়েছে।

অন্যদিকে আমার থাই বীজ ক্রেতার ৯৮% জার্মিনেশন হয়েছে৷ চারাও মাশাআল্লাহ সুস্থ। 

   তাই আমি সাজেস্ট করবো দাম একটু বেশি হলেও ভালো বীজ ক্রয় করুন। 


লেখক-ইউছুপ আহমাদ 

কৃষি পরামর্শ গ্রুপ




Friday, May 21, 2021

সজিনা গাছে প্রুনিং

 সজিনা গাছে প্রুনিং করলে ফলন ৩ গুন বেশি হয়। 

সজিনা গাছে প্রুনিং।


(ইন্ডিয়ান বারোমাসি সজিনা বীজ লাগলে নিতে পারেন) জাতঃ ODC3 Indian 


প্রুনিং না করলে সজিনা গাছের ডালপালা অনেক কম হয়।  


কিভাবে প্রুনিং করবেন? 


১. বারোমাসি সজিনা গাছের বয়স যখন ৩ মাস হবে তখন সজিনা গাছের আগা কেটে দিন, এতে গাছ উপরের দিকে বৃদ্ধি হতে না পেরে ৩-৪ টি ডাল দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। 


২. ২ মাস পর আবার সেই ডালগুলোর আগা কেটে দিন, এতে গাছে অনেক ডালপালা হবে।  


ভালো ফলাফলের জন্য আবার তৃতীয় ধাপে ডালের আাগা কেটে দিতে পারেন।  এবং এভাবে যদি কোনো ডাল অতিরিক্ত লম্বা হয়ে যায় তাহলে সেক্ষেত্রে ডালের আগা কেটে দিতে পারেন।  


প্রুনিং এর সুবিধা বা উদ্দেশ্য  (Objectives of Pruning)

১. প্রুনিং এর প্রধান উদ্দেশ্য হল গাছের অঙ্গজ বৃদ্ধি ও ফল ধারণের মধ্যে সাম্যতা আনয়ন করা।

২. ফল উৎপাদন শাখা প্রশাখা (fruiting branches) সংখ্যা বৃদ্ধি করা।

৩. গাছের উৎপাদন ক্ষমতা এবং ফলের গুণগত মান বৃদ্ধি করা।

৪. অনুৎপাদনশীল গাছে ফল ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নতুন নতুন ডালপালা গজানো (Rejuvenzation)।

৫. গাছের কোন ক্ষতস্থানে সারানো।

৬. পরবর্তী বছরগুলোতে ফুল-কুঁড়ির বিকাশ বৃদ্ধির নিশ্চয়তা প্রদান করা।

৭. বেশি সংখ্যক ফল ধারণের নিশ্চয়তা প্রদান করা।

ঢ়) ফলের গুণগত মান এবং বর্ণের আকার উন্নত করা।


 ধন্যবাদ link


কৃষি পরামর্শ 



Sunday, May 2, 2021

মাছের চাষে পুকুরের তাপমাত্রা নিয়োন্ত্রন

 ইদানীং বেশ গরম পড়ায় পুকুরের পানির তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে মাছের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চাষী। তাই, এ অবস্থান থেকে উত্তরণের উপায় সম্পর্কে কিছু তথ্য আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।


পুকুরের পানির তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে কি করণীয়ঃ

১. কচুরিপানা বা টোপাপানা ব্যবহার ঃ

 কচুরিপানা বা টোপাপানা জীবানুমুক্ত করে পুকুরে ৫-১০% জায়গা জুড়ে বাঁশ দিয়ে বেঁধে বা বেষ্টনীর করে দিলে গরমের সময় মাছ আশ্রয় স্থল হিসেবে ব্যবহার করবে। কচুরীপানা পুকুরের মাঝখানে বা কিনারে সাপোর্ট দিয়ে সীমানা নির্দিষ্ট করে রাখতে পারেন ।


২.কৃত্রিমভাবে ছায়া বা সেড তৈরী করে তাপের স্তরীয় বিন্যাস প্রতিরোধ করে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। 

৩.পুকুরের গভীরতা পর্যাপ্ত পরিমাণে বাড়িয়ে অথবা  কম গভীর পুকুরে পানি প্রবেশ করার  মাধ্যমে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।


 (পানি প্রবেশ/সরবরাহ  করা যেতে পারে ভূগর্ভস্থ পানি থেকে বা নদী নালা খাল বা অন্য কোন পুকুর থেকে )। 

(বলে রাখা ভালো ঃ অগভীর পুকুরের পানির তাপমাত্রা খুব সহজেই বৃদ্ধি পায় এবং এতে পানির অক্সিজেন ধারণ ক্ষমতা কমে যায় )। 


৪. এ সময় মাছের খাবার অর্ধেক কমিয়ে আনলে ভাল হবে।


মাছের খাবারের সাথে ভিটামিন সি  মিশিয়ে মাছকে খাওয়াতে হবে।


৫.  রোদের সময় হররা বা চেইন ড্রাগিং করে পুকুরের তলার গ্যাস বের করে দিতে হবে।


৬.  ভোরে / খুব সকালে  অথবা সন্ধ্যায় /রাতের সময় চুন ও লবন পরিমাণ মতো (শতকে ১০০-২০০ গ্রাম) প্রয়োগ করা যেতে পারে।

৭. অতিরিক্ত তাপমাত্রায় অক্সিজেন প্লোবলেম হলে পানি সরবরাহ বা রিভার্স সিস্টেম, অস্থায়ী ভাবে  অক্সিজেন ট্যাবলেট বা স্থায়ী সমাধান হিসেবে এয়ারেটর ব্যবহার করতে হবে। 


Mahtabuz Zaman Rafsun 

FDI,Chandpur (6th batch)

IIAST,Rangpur (4 th batch) 

Studying : Fisheries Department

Saturday, May 1, 2021

ব্রয়লার মুরগী চাষে করোনীয়

 ব্রয়লার মুরগি এমন একটা আবিষ্কার,  আসলেই যার পরিপূরক, সমতুল্য বা বিকল্প কোন জাত আবিষ্কার হয় নাই। এর প্রসারের সাথে সাথেই গরিবের পক্ষে যখন তখন মাংস কেনা সম্ভব হচ্ছে, যদিও অনেকেই ব্রয়লার মাংস পছন্দ করে না, তবে এটা সম্ভব হয়েছে শুধু ব্য়লারের কল্যাণেই। ব্রয়লার যথেষ্ট সুস্বাদুও, কিন্তুু আমাদের অনেকেই নাক ছিটকায়। এর কারণ, এর বেশি সহজলভ্যতা।

বড়লোকের মাঝে একটা সাধারণ  tendency বা ঝোক আছে, তাহল যদিও কোন পণ্য গুণে মানে একই হয়,  কিন্তুু যদি জিনিসটার দাম অন্য জিনিসের তুলনায় কম হয়, তাহলে তারা কিনবে না। তাদের আসলে গুণের দরকার নেই, তাদের দরকার পণ্যটির দাম।  যে পণ্যের দাম বেশি এবং ব্র্যাণ্ড আছে তারা সেটাই কিনবে। আর এজন্য কোম্পানিগুলো কোন জিনিসের দাম কম নির্ধারণ করতে চায় না। ওদের কারণেই সোয়াবিন আর লবণের দাম বেশি। যেমন কোন কোম্পানি যদি অন্য কোম্পানির চেয়ে লবণ বা তেলের দাম কেজিতে ১০ টাকা নির্ধারণ করে,  তারা বেশি দামেরটাই কিনবে। কমদামীটা কিনবে না। তদ্রুপ, খামারিদের মাঝেও একটা কমন প্রবণতা আছে,  তাহল যে ফিডের দাম ২০০০ এর নিচে,  তারা মনে করে এই ফিড ভাল না। এটা খাওয়ালে মুরগি বাড়বে না। কোম্পানি গুলো তাদেরকে এমন এক টোটকা দিয়ে দিয়েছে যে তারা নারিশ আর এসিআই এর ফিডই কিনবে। তেমনি যখন বাচ্চা কিনবে,  তারা খুজবে কাজী, নারিশ অমুক তমুক। কিন্তুু একটা জিনিস বুঝে আসে না, নারিশ কাজী যে মেশিনে বাচ্চা ফোটাই, একই মেশিন দিয়ে অন্যান্য কোম্পানিও বাচ্চা ফোটায়।  তাহলে সমস্যাটা কোথায়?? আবার কোন বৃহৎ কোম্পানি যখন খাবার বানায়,  সকল উপাদান এবং রিমিক্স বা মাল্টিভিটামিনগুলো সমানভাবেই দেওয়ার চেষ্টা করে। কারণ ঔ খাবারটা আপনি আর আমি বানাচ্ছি না। বানাচ্ছে কো ভেটেনারি অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শেই। আর খাদ্য এবং ব্রয়লার বাচ্চার দাম খামারিদের এই প্রবণতার কারণেই বাড়ছে। কারন কোন নতুন কোম্পানি যদি খাদ্যের দাম ২০০০ এর নিচে নির্ধারণ করে আপনারাই বলবেন খাদ্যের মান ভালো না।

এই ব্যাপারটা সবকিছুর ক্ষেত্রেই।  যে সয়াবিন তেল এখনও হয়ত ৮০ টাকায় পাওয়া যায়, সেখানে আপনি আমি মানের দোহাই দিয়ে ১৩০-৪০ টাকারটা কিনছি। একই তেল যখন খোলা থাকে তখন দাম ৮০ টাকা, গায়ে যখন সে ব্র্যান্ডের পোশাক পড়ে তার দাম বেড়ে হয়ে যায় ১২০-৩০ টাকা।

সবসময় এত স্বাস্থ্য সচেতন হলে চলে না। একটু কম দামেরটা খান। যতই চাপাচাপি আর লাফালাফি করি ৬০-৭০ এর ওপর তো এ যুগে কেউ টিকবে না। তো এত ভাল খেয়ে কি হবে?? এসব করে তো আমরা তীর, ACI, প্রাণ এগুলোর মান বাড়িয়ে দিয়েছি। নতুন উদ্যোক্তাদের সুযোগ দিন। ব্র্যান্ড ছাড়ুন। ২০ টাকা কেজি লবণ, আর খোলা সোয়াবিন খান। বসুন্ধরায় মার্কেট না করে,  লোকাল বাজারে করেন।


 অনেকদিন ধরেই আমার একটা কৌতুহল,  অন্য বাচ্চা যেমন ফাওমি,  সোনালির দাম যেখানে ২০-৩০ এর মধ্যে থাকে, সেখানে ব্রয়লার এর দাম ৫০-৬০ টাকা কি করে হয়?? মানলাম ব্য়লার মুরগি ডিম কম দেয়,  খাবার বেশি খায়, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেক বেশি। তাই বলে একটা বাচ্চার দাম ৫০-৬০ টাকা কিভাবে হয়, কেউ ব্যাপারটা একটু ব্যাখ্যা করবেন। 

আমাদের খামারিদের অতিলোভের কারণেই, রাতারাতি বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন থেকেই মনে হয় বাচ্চার দাম এত বেশি। না জেনে না বুঝে না শিখে ঋণ করে কেউ ব্রয়লারের নাম মুখেও আনবেন না। রাতারাতি বড়লোক হওয়া যায় না। ২০০০, ৩০০০, ৫০০০ পালার দরকার নাই।  নিজের টাকায় ৫০০-১০০০  দিয়ে শুরু করেন। যত লাভ তত ক্ষতি। তবে বেশি বাচ্চা পালনের সুবিধাও আছে,  তবে সবার জন্য না। অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা। আপাতত ১০০০ এর ওপর কেউ বাচ্চা পালবেন না। দেখবেন বাচ্চার দাম কমবে। চাহিদা কম থাকলে জিনিসের দামও কমে।

Wednesday, April 28, 2021

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের প্রতিবন্ধকত

 পোস্টটি মাছ চাষের নতুন উদ্যোক্তা এবং মাছ চাষী ভাইদের কাজে লাগবে কেননা তারা প্রতিবন্ধকতাগুলো র বিকল্পটা তৈরির পাশাপাশি সতর্ক থেকে অভিজ্ঞদের হেল্প নিয়ে দেশের অন্যতম মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের প্রতিবন্ধকতাঃ



বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের প্রতিবন্ধকতাঃ  


১.সবল ও কোয়ালিটি সম্পন্ন পোনা না  চেনা বা না কেনাঃ

সস্তা জিনিসের বেশি আমাদের ঝোঁক হওয়ায় আমরা পোনা সবল ও কোয়ালিটি সম্পন্ন কিনা তা বিবেচনা না করা এবং অনেক সময় অনলাইন থেকে তাদের রোমাঞ্চকর বিজ্ঞাপনে আমরা পোনা কিনে থাকি। অনেকসময় পোনা কিনতে গিয়ে দামে ঠকছি, পরিমাণে ঠকছি এবং গুণেও ঠকছি। অনভিজ্ঞ ও নতুন চাষীরা এরকম  প্রতারণার সম্মুখীন বেশী হচ্ছে। 

২. পানির মান পরীক্ষা না করাঃ

পানিতে iron, arsenic, Salinity বা হেভী মেটাল কি পরিমাণ আছে বা আছে কিনা সেটা না জেনে আমরা চাষ করে ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারি। আবার ওয়াটার প্রিপারেশন আমরা ভুল ভাবে করে থাকি।


৩।নিম্ন কোয়ালিটি সম্পন্ন খাবার ও খাবারে দাম অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধিঃ

অনেক কোম্পানির ফিডের বস্তায় protein লেখা থাকে ৩০ কিন্তু বাস্তবে lab এ পাওয়া যায় 18-20.

আর আমরা অনেকে খাবার সংরক্ষণ সঠিকভাবে না করায় খাবারের গুনাগুণ ক্ষুন্ন হচ্ছে

আর বায়োফ্লকে যেই উৎপাদন খরচ তার সাথে বাজারমূল্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে মিলানো যায় না।

৪।পানির parameters ও পানির গুনাবলী সম্পর্কে ধারণা না থাকাঃ

Waterb temperature, P^h, Dissolved O^2,Alkalinity, Hardness, TDS,NH3, Iron,dept,Salinity সম্পর্কে ধারণা না থাকা

বিশেষত, ইসরাইলের বিজ্ঞানী Professor yoram avnimelech তার ওখানে tds রেখেছে 14000-18000 mg/L. কিন্তু বাংলাদেশের আবহাওয়ার জন্য tds কত উপযুক্ত সেটা বিবেচনা না করা। তারপর শিং মাছ সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের tds, salinity কত থাকা উচিত বা কত এর বেশি হলে সহ্য করতে পারে না বা গ্রোথ স্লো হয়ে যায় সেটা সম্পর্কে ধারণা না রাখা

এছাড়া প্লোবায়োটিক সম্পর্কেও তাদের ভালো ধারণা না থাকায় বা অসাধুদের অনেকে প্লোবায়োটিক তৈরিতে  বালু /sand  মিশিয়ে ক্রোয়ালিটি কমিয়ে এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়া কম দিয়ে প্রতারণা করছে

৫।আড়তদার ও মধ্যস্থতা ভোগীদের (সিন্ডিকেট) এর দৌরাত্ন্য ঃ

চাষীদের দাম কম পাওয়ার পিছনে এরাও একটা অন্যতম কারণ।কেননা এরা চাষীদের কাছ থাকে সব মাছ পাইকারি দামে ক্র‍য় করে বাজারে খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে উচ্চ দামে মাছ বিক্রি করে করে থাকে। তাছাড়া আড়তদার এর কাছে মাছ বিক্রি করলে এরা মণে  ৪-৫ কেজি মাছ বেশী রাখে চাষীদের কাছ থেকে।

ফলে চাষীরা ঠকছে, ভোক্তা ও ঠকছে

কিন্তু ৩ য় পক্ষ লাভবান হচ্ছে

৬. মাছের বাজারমূল্য বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কম থাকাঃ

মাছের দেশে মাছ আমদানি করায়  এবং কোভিড পরিস্থিতিতে রপ্তানি বন্ধ থাকায় চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে 

উল্লেখ্য, আমদানিকৃত মাছের মধ্যে অনেক মাছে কয়েক বছর আগেও সীসা,লেড, ক্রোমিয়াম ও পারদ পাওয়া যেত যা স্বাস্থের পক্ষে বেশ ক্ষতিকর (জানি না বর্তমানে কেমন পাওয়া যাচ্ছে নাকি ) । আর বিক্রেতারা দেশী মাছের চাহিদা বেশী থাকায় বিদেশি আমদানি মাছকে দেশী বলে বিক্রি করছে।


৭.সঠিক রোগের ট্রিটমেন্ট সম্পর্কে ধারণা না থাকাঃ অনেক চাষি অনলাইন বা অফলাইন থেকে রোগের ট্রিটমেন্ট কারেক্ট করে তারা যে যেভাবে ট্রিটমেন্ট বলছে সেভাবে দিচ্ছে।

৮. মৎস্য ক্ষেত্রে দক্ষ জনবলের অভাবঃ এ খাতে আমরা হাতে কলমে কাজ করা টেকনিক্যাল জ্ঞানসম্পন্ন  ফিসারিজ ডিপ্লোমা পড়ুয়াদের তেমন কাজে লাগাতে পারছি না বা সুযোগ দিচ্ছি না - যারা কিনা ৪ বছর ফিসারিজ ডিপ্লোমা (৫২ সাবজেক্ট) পড়ে বিভিন্ন জায়গায় ইন্টারনি ও প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ হয়ে আসে।  ফলে পরোক্ষভাবে ফিসারিজ সেক্টর তার সুযোগ হারানোর পাশাপাশি চাষীরা ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। 


৯.প্রতিরোধ মুলক ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা না থাকা বা কম থাকা


১০. অসাধু পোনা ও পোডাক্ট ব্যবসায়ীঃ

ওদের রোমাঞ্চকর বিজ্ঞাপন, ওভার কনফিডেন্স  বা নতুন উদ্যোক্তা ও চাষীদের অতি উৎসাহ দিয়ে তাদের বিভিন্ন পোনা, পোডাক্ট, parameter, ফিড,মেশিনারি  প্রভৃতি বিক্রি করে থাকে যেগুলো ভাল ও গুণাগুনসম্পন্ন পণ্য নয়।


১১. ট্রেইনারদের প্রতি নেতিবাচকতাঃ

কিছু অসাধু ট্রেইনার যারা ট্রেইনারের নামে পণ্য বিক্রি করছে তাদের কারণে প্রকৃত ট্রেইনারদের আমরা খুজে নিতে ব্যর্থ হচ্ছি।

তবে আমার কাছে মনে হয়, ভালো ট্রেইনাদের খুজে তাদের কাছে প্রশিক্ষণ নেয়া উচিত কেননা আমরা লাখ লাখ টাকার মাছ চাষ করবো কিন্তু ৩-৪ হাজার টাকার কারণে প্রশিক্ষণ নিবো না  সেটা হয় না। কেননা,উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এর মাধ্যমে চাষীরা অনেক বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারি।

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের প্রতিবন্ধকতাগুলো মাথায় রেখে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ভাইদের ও স্যারদের হেল্প নিয়ে আমরা যাতে চাষের প্রসার ঘটিয়ে মাছের উৎপাদন বাড়াতে পারি - সেদিকে দৃষ্টিপাত রেখে আমাদেরকে এ সেক্টর কে আরো কয়েকধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তাহলে ইনশাল্লাহ সফলতা আসবে।


মাহতাবুজ জামান রাফছান 

ফিসারিজ ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউট, ৬ষ্ঠ ব্যাচ

আই. আই. এ. এস. টি,  রংপুর (ফিসারিজ ডিপার্টমেন্ট- অধ্যয়নরত)

Monday, April 26, 2021

কৃষকের গল্প



পড়াশুনা কৃষি নিয়েই।

কৃষকের গল্প।

অনার্স করেছি নোয়াখালী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।মাস্টার্স করতেছি সীড টেকনোলজি বিষয়ে,শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়,ঢাকা থেকে।পড়াশুনা কৃষির উপর হলেও কৃষি নিয়ে বড় ধরনের কাজ এটাই।পড়াশুনার পাশাপাশি ছাদ বাগান বা কৃষি প্রডাক্ট নিয়ে অনলাইন ভিত্তিক বিজনেস & টুকটাক কৃষি বিষয়ক পরামর্শ দিয়ে আসতেছি প্রায় ২ বছর সময় ধরে "Seed Bazar-বীজ বাজার " ফেইসবুক পেজের মাধ্যমে।ব্যাবসার পাশাপাশি ছাদ বাগানে বা অল্প পরিসরে কাজ করেছি এতো দিন ধরে।লক ডাউন বা বিভিন্ন কারনে এলাকায় আছি।তাই অলস এই সময়টা কাজে লাগাতে হঠাৎ করে মাঠে কিছু করার ইচ্ছা হলো।তাই প্রথমবারের মতো পরিক্ষামুলক ১২-১৫ শতাংশ জমিতে বিদেশি ফল রকমেলন & সাম্মাম বা মেলন, শসা,করলা,বেগুন, মরিচ,বরবটি ইত্যাদি অল্প অল্প করে চাষ শুরু করেছিলাম ১.৫ মাস আগে আধুনিক পদ্ধতি & মালচিং পেপার পদ্ধতিতে।

আজ সফলতা স্বরূপ ২১০ কেজি শসা সংগ্রহ করলাম।স্থানীয় বাজারে কেজি ১৮/- পাইকারি। 

বাকি ফল & সবজি থেকেও ভালো কিছু আশা করছি।

মাঠে কাজ করে এটাই উপলব্ধি করলাম যে মাঠে কাজ করা খুব সহজ কিছু না।এতো পরিশ্রম করেও যদি কৃষক তাদের সঠিক মূল্যায়ন বা ফসলের ন্যায্য মুল্য না পায় তাহলে কৃষকের জন্য তা কতোটা কষ্টের হতে পারে এখন বুঝতেছি।আরামে বসে বসে যারা কৃষককের উৎপাদিত ফসল ভক্ষণ করতেছি তারা কখনোই এই সব ফসল উৎপাদনকারী কৃষকদের কষ্টের গল্প গুলো জানতে পারব না।

পরিশেষে কৃষক যেন তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মুল্য পায় এটাই প্রত্যাশা.......... 


ফারুক আহমেদFb link


সিইও

Seed Bazar-বীজ বাজার

মাস্টার্স চলমান

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

বিষয়ঃ সীড টেকনোলজি


উলিপুর, কুড়িগ্রাম

Wednesday, April 21, 2021

জয় হোক মেহনতী মানুষের।

কৃষি পরামর্শ  গ্রুপের পোস্ট


আশা করি কেউ হাসবেন না। এটা আমার একটা কাল্পনিক চিন্তাধারা। অনেকটা পাগলের প্রলাপ মনে হতে পারে, কিন্তু অসম্ভব কিছু নয়। আর এডমিনকে পোস্টটি এপ্রোভ করার জন্য ধন্যবাদ দিয়ে বড় করতে চাই না।

আদিকাল থেকে আজ পর্যন্ত মানবজাতির ইতিহাস হচ্ছে জীবন সংগ্রাম তথা টিকে থাকার ইতিহাস। আর এই জীবন সংগ্রামের মূলে রয়েছে ক্ষুধাকে জয় করার বা খাদ্যের যোগানের নিরন্তর  চেষ্টা। কিন্তু আজও পৃথিবীর অনেক মানুষ পেট ভরে একটু ভাল খাবার, মাথা গোজার একটু ঠায়, দুটুকরো কাপড়,  ভাল একটু চিকিৎসা পায় না। আর এই লক্ষকে সামনে রেখেই আমাদের পথ চলা হোক, সুখে থাকুক পৃথিবীর সকল মানুষ।  আর কৃষিকে আবর্তন করেই হোক আমাদের সকল কর্মকাণ্ড। একমাত্র কৃষিই পারে বিশ্বকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে।

তাই এমন একটি সিস্টেম চালু করে যেতে চাই,  যে সিস্টেমের আওতায় কৃষক  এবং উৎপাদক তার ন্যায্য মূল্য পাবে,  কৃষি তথা কৃষকের উন্নয়ন হবে। আর এই সিস্টেমের প্রধান উদ্দেশ্য হল উৎপাদক এবং সাধারণ ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণ করা, যাতে দুজনেই উপকৃত হয়। সাধারণ মানুষের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় লাগামহীন ট্যাক্স বা শুল্ক,  সরকারি অপচয়,  ঘুষ, দুর্নীতি আর অনিয়ম, যার ফল জীবনযাত্রার ব্যয় তথা আকাশচুম্বী দ্রব্যের দাম। সরকারি ব্যয় তথা দুর্নীতি ও অপচয় বৃদ্ধির ফলেই আজ আমাদের পকেটে টাকা থাকে না।  যে পাওয়ার টিলার চায়না থেকে কেনা হয় ৫০-৬০ হাজার দিয়ে, বাংলাদেশে এসে হয়ে যায় ১ লাখ ২০-৩০ হাজার।

কৃষির কল্যাণের জন্য উৎপাদক থেকে যাতে সরাসরি ভোক্তার হাতে পণ্য পৌছে দেওয়া যায় সেই সিস্টেমই চালু করতে চাই। এজন্য ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি জেলা পর্যায়ে  শীর্ষস্থানীয় বাজারসমূহে অনেকগুলো সুপারশপের ব্যবস্থা থাকবে, যেখান থেকে গ্রাহকরা সরাসরি উৎপাদিত কৃষি পণ্য ক্রয় করতে পারবে অত্যন্ত ন্যায্যমূল্যে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন বাজারে বা পয়েন্টে এই শপগুলো বানানো হবে। আর এই শপগুলোতে পণ্য সাপ্লাই দেওয়ার জন্য থাকবে বিশাল এক কোল্ড স্টোরেজ যেখানে দীর্ঘ সময় পচনশীল দ্রব্য সংরক্ষণ করা যাবে এবং যেকোনসময় প্রয়োজন অনুযায়ী শপগুলোতে যোগান দেওয়া হবে। এর আওতায় থাকবে পচনশীল দ্রব্য তথা তরিতরকারি, শাকসবজি, মাছ মাংস, দুধ, ডিম। চাল, ডাল, তেল,  লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো হবে সুপারশপের পণ্য।  মোট কথা মানুষ যাতে অন্তত চাল, ডাল, তেল, লবণ, আলু,  ডিম, তরিতরকারি শাকসবজির অভাব না বোধ করে তাই করব।


আমার ইচ্ছা  একটি বৃহদাকার বা দানবাকৃতির অটোরাইসমিল দিব, যেখানে প্রতিদিন শত শত মেট্রিকটন চাল বের হবে। যার ফলশ্রুতিতে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে। মোটকথা সকল প্রয়োজনীয় দ্রব্য নিজেই উৎপাদন করে স্বল্পমূল্যে বাজারজাত করব।

আর দেশের একজন মানুষও যাতে না খেয়ে থাকে, সেজন্য এমন একটা রেডিমেইড ফুড আইটেম যা হবে খুবই সস্তা, সুস্বাদু  কিন্তু পুষ্টিকর ও মানসম্পন্ন, যা ভাতের পরিপূরক   এবং ক্ষুধা নিবারণ হয়,  তেমনই একটা খাবার মানে একের ভিতর সব পুষ্টি থাকবে। আমিষ, শর্করা, স্নেহ, ভিটামিন সব খাদ্য উপাদানই দেওয়া হবে। বেসিক্যালি মাছ মাংস ডিম ও ময়দার সংমিশ্রণে এটা তৈরী হবে, যা খেতে অবশ্যই সুস্বাদু হবে। যার মূল্য হবে মাত্র ১০-১৫ টাকা। যাতে ১০-১৫ টাকা দিয়েই একজন মানুষের একবেলার খাবার জোটে সে ব্যবস্থাই করতে চাই। আর এই প্রোডাক্টটি অবশ্যই যাতে ২-৩ দিন সংরক্ষণ করা যায়,  সেরকম চেষ্টা আছে। অনেকটা কেক জাতীয়, তবে কেক এর মত এটা মিষ্টি না, বরং ঝালজাতীয়। 

 কারণ মিষ্টি আমরা সবাই ভালবাসি, তাই বলে কোন তরকারি যদি ঝাল ছাড়া শুধু  চিনি দিয়ে রান্না করা হয় তাহলে কেমন হবে?  কয়বেলা খাবার খেতে পারবেন? একবারও না। আমরা সকালের রুটি পরোটার সাথে হালুয়া খুজি না, খুঁজি মাংসের ঝোল ডাল আর আলুভাজি। আর সেই চাহিদাই পূরণ করবে আমার উদ্ভাবিত খাবার।


এর ফলে আমরা যতখুশি তত মাছ, মাংস, ডিম,  আলু উৎপাদন করে সেগুলো খাদ্যে রুপান্তরিত করতে পারব। পৃথিবীতে এখনও যেমন অসংখ্য মানুষ না খেয় থাকে, ঠিক তেমনি অসংখ্য জমিজমা অনাবাদি থেকে যায়। সেজমি গুলো যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী আবাদ ও ব্যবহার করা যায় এবং সকলের মাঝে উৎপাদিত ফসলের সুষম বন্টন করা যায় তাহলে আমার মনে হয়,  পৃথিবীতে কেউ না খেয়ে থাকবে না।

এক্ষেত্রে আমার উদ্ভাবিত  কেক বা রুটিটি হতে পারে সেরা নিয়ামক । all in one food.

ভোগে সুখ নাই,  ত্যাগেই একমাত্র সুখ।

মানুষ মানুষের জন্য

জীবন জীবনের জন্য।

জন্ম সৃষ্টির লক্ষ্যে

আর সৃষ্টির আনন্দ অপরিসীম। 

পুঁজিবাদ নিপাত যাক, জয় হোক মেহনতী মানুষের।


ধন্যবাদ

https://www.facebook.com/safiqual.islam.1

Saturday, April 17, 2021

ধানের ব্লাস্ট রোগ

 আমাদের প্রধান ফসল হল ধান,,আমরা সকলেই

ধানের ব্লাস্ট রোগ।

ধানের ব্লাস্ট রোগ।
কমবেশি ধানের চাষাবাদ করে থাকি,তবে গত এক সপ্তাহ থেকে আমাদের দেশের কিছু এলাকায় ধানের শীস মরক রোগ দেখা দিয়েছে,যা ধীরে   

ধীরে মহামারী আকার ধারন করছে,,এই অবস্থায় যদি ধানে যথাযথ ছএাকনাশক ব‍্যাবহার করা না হয় তা হলো


ধানের ফলনে মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিবে,,আপনারা নিন্মলিখিত ছএাকনাশক গুলো বিকেলবেলা ব‍্যাবহার করতে পারেন।


1..নাটিভো/ট্রুপার/ফিলিয়া/সেলটিমা,

প্রতি লি: পানিতে এক গ্রাম হারে।এর সাথে

2..নোইন/অটোণ্টিন/কার্বোনডাজিম গ্রুপের যে কোন ছএাকনাশক প্রতি লি: পানিতে দুই গ্রাম হারে।

3-4 দিন পর পর দুই বার ব‍্যবহার করলেই ইনসাআল্লাহ্ এই মহামারি থেকে আমাদের রক্ষা করা সম্ভব হবে।

ধন্যবাদ

dk rasel ahmed

কৃষি পরামর্শ গ্রুপ




Monday, March 29, 2021

ছাদে ফলের বাগানের যত্ন

ছাদে ফলের বাগানের যত্ন।

ছাদ ফলের বাগানের যত্ন

যেহেতু এটি একটি সীমিত আকারে ও উত্পাদিত হয়, তাই অতিরিক্ত যত্ন নিশ্চিত করতে হবে এবং বিভিন্ন ভাবে যত্নে নিতে হবে। সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সার কম বা বশি হলে গাছ মারা যায়, পরিমাণ মতো না হলে অপুষ্টিতে ভুগবে। অনেক লোক বলে, আমার গাছ মারা যাচ্ছে। সার ও গোবরের সাথে মাটি মিশ্রিত করার জন্য এটি যেভাবে লেখা হয়েছে তা অনুসরণ করুন। সেচ নিকাশী সেচ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মাটির আর্দ্রতার কারণে গাছগুলি খুব সহজেই মরে যেতে পারে, যেমন অতিরিক্ত জল বা পানির আর্দ্রতার কারণে সুতরাং আপনাকে অবশ্যই ছাদ বাগান বা মূল জমিতে সেচ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। জল পদ্ধতিতে দেওয়া উচিত যাতে উদ্ভিদের জল কম বেশি না হয় । পরিচ্ছন্নতা ছাদ বাগানে বা মূল জমিতে প্রতিদিন পরিষ্কার করা উচিত। এজন্য পুরাতন অসুস্থ, পুরাতন ডালপালা, পাতা সাবধানে কাটা উচিত এবং একটি নির্দিষ্ট জায়গায় জমা করতে হবে। এটি গাছগুলিকে রোগমুক্ত রাখবে, ফলনের উপকারে আসবে। রোগাক্রান্ত পাতা পোড়াতে হবে। রোগ এবং পোকামাকড় পোকামাকড় বা রোগ সর্বদা আমাদের দেশের জলবায়ুর যে কোনও ফলের আক্রমণ করে। সেক্ষেত্রে আপনাকে সাবধান হতে হবে। হঠাৎ রোগ এবং পোকামাকড় মারাত্মক হয়ে উঠলে উপযুক্ত কীটনাশক সঠিক সময়ে ব্যবহার করা উচিত। অন্যথায় বাগানের অন্যান্য গাছ ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
বর্তমান ট্রাইকোড্রামা বিভিন্ন রোগের ছত্রাকনাশক হিসাবে কাজ করছে। আপনি নিজেই এটি তৈরি করতে পারেন: একটি 20 লিটারের বালতিতে গোবর, উদ্ভিজ্জের অবশিষ্টাংশ, ডিমের খোসা, 20 কেজি ছাই মিশিয়ে 2 চা-চামচ পানিতে 10 চা-চামচ বা 50 গ্রাম ট্রাইকোডার্মার সাথে ভালভাবে মিশিয়ে নিন। এটি এক মাসের জন্য রেখে দিন এবং প্রতিবার এবং পরে এটি পানিতে মিশ্রিত করুন। 20/25 দিন পরে, বালতিটির নীচে গর্ত দিয়ে যে রস বেরিয়ে আসবে তা ছত্রাকনাশক হিসাবে ট্রাইকো-লেচেটে স্প্রে করা হবে। একই সময়ে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল জৈব সার প্রস্তুত থাকবে আপনি সকাল 9-11 বা বিকাল ৪-৫০ এর মধ্যে রোদ অবস্থায় সমস্ত ওষুধ বোর্ডোমিক্সার স্প্রেও ব্যবহার করতে পারেন। অজৈব ছত্রাকনাশক হিসাবে আপনি ছোট চারাগুলির জন্য কপার গ্রুপ মেডিসিন চ্যাম্পিয়ন (পেট্রোকাম) বা ব্লিটক্স (অটো) স্প্রে করতে পারেন। বড় গাছগুলির জন্য আপনি অ্যাক্রোভ্যাট এমজি (পদ্মা) / রিডমিল সোনার / কম্পিয়েনিয়ান / অটোস্টাইন ব্যবহার করতে পারেন। আপনি যদি লক্ষ্য করেন তবে আপনি পাতার উপরের বা নীচে বিভিন্ন ধরণের পোকামাকড় দেখতে পাবেন যেমন জব পোকামাকড়, সাদা মাছি পোকামাকড়, মিলিবাগস, মাকড়সা বা থ্রাইস পোকামাকড়। এছাড়াও বিভিন্ন পাতা খাওয়ার পোকামাকড় রয়েছে যেমন লিফোপারস, উইভিলস, বিটলস এবং পাতাযুক্ত পোকামাকড়। এই কীটপতঙ্গগুলি হ্রাস করতে আপনি নিজের ওষুধ তৈরি করতে পারেন একটি 2 লিটারের বোতলে 1 লিটার পানি নিয়ে তাতে 5 টি পেঁয়াজের লাল লেপ 5/7 দিনের জন্য রেখে দিন, তার সাথে 4 লিটার জল মিশিয়ে ভিজিয়ে স্প্রে করুন পাতা, কান্ড এবং শিকড় । আঠালো হলুদ ট্র্যাপ (এসিআই) পোকামাকড় চুষানোর জন্য কার্যকর পদ্ধতি তবে নীল ফাঁদ বা সাদা ট্র্যাপ (ইস্পাহানী সংস্থা) থ্রাইসের জন্য সবচেয়ে ভাল কাজ করে। এছাড়াও ইমিডাক্লোরোপিড গ্রুপের কীটনাশক (উদাঃ এমিটাফ / টিডো) বা একতারা মিশিয়ে এক লিটার পানিতে অর্ধেক হারে স্প্রে করুন। মাকড়সার আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে সালফার সার পাতার নীচের দিকে স্প্রে করতে হবে এবং পোকামাকড়ের ক্ষেত্রে ভার্টিম্যাক স্প্রে করতে হবে। আপনি যদি থ্রিপসের ঝুঁকিতে বেশি থাকেন তবে ইন্টারপিড (পদ্মা) বা পাইরাজিন (এসিআই) বা স্প্লেন্ডার (জাতীয়) ব্যবহার করুন। ফলটি বাছাই না করা পর্যন্ত প্রতি 10-15 দিন একবার এটি দিন। ফলটি যদি ব্যবহারের উপযোগী হয় তবে অকারণে কীটনাশক দেবেন না। পাতা খাওয়ার পোকামাকড়ের ক্ষেত্রে সাইপ্রমেথ্রিন গ্রুপ (রিপকার্ড) বা ক্লোরোপাইরিফোস গ্রুপ (দারসবান বা মর্টার) বা সাম্প্রতিক ভলিউম ফ্লেক্সি যদি আপনি প্রথমে তাদের হাতে না হত্যা করেন তবে সবচেয়ে ভাল কাজ করে। বর্তমান ইমিডান (পেট্রোকাম) পাতার পোকা বা পোকার পোকা থেকে রক্ষা করতে ভাল কাজ করে well এগুলি প্রতি 8-10 দিন অন্তর স্প্রে করা দরকার যখন বিষ স্প্রে করা হয় তখন এটি ড্রামের নীচে এবং টবের নীচে স্প্রে করুন কারণ পিঁপড়ার নীড় এর নীচে থাকে এবং পিঁপড়াগুলি ফলের গাছগুলিতে ফলের কুঁড়িগুলি নষ্ট করে দেয়। এছাড়াও, বাজারে পাওয়া ফিনিশ পাউডার পিঁপড়া থেকে মুক্তি পেতে ভাল কাজ করে, আপনি হলুদ গুঁড়ো ছিটিয়ে দিতে পারেন বা 1 লিটার পানিতে 1 চা চামচ বা 5 গ্রাম আকারে স্প্রে করতে পারেন। যাইহোক, অজৈব medicineষধ দেওয়ার পরে 10-15 দিনের জন্য কোনও ফসল সংগ্রহ করা যায় না তবে ছাদের উদ্যানদের আমার পরামর্শটি হল পেঁয়াজের খোসার তৈরি জৈব কীটনাশক ব্যবহার করা
ছাদের বাগানে কেঁচো কোন উপকারে আসে না কারন ছাদের মাটিতে কেঁচোর পর্যাপ্ত খাবার থাকে না তাই তারা খাবারের জন্য গাছের ক্ষতিই বেশী করে৷ এজন্য প্রতি ১০ লিটার পানিতে ১০০ গ্রাম পটাশ গুলে ১৫ দিন পর পর গাছের চার দিকে চক্রাকারে দিন এতে কেঁচো হবে না আপনার শখের বাগানে । তবে সাধারন জমির জন্য কেঁচো অত্যন্ত উপকারী প্রাণি, একে প্রকৃতির লাঙ্গল বলা হয় কারন কেঁচো মাটির আলোবাতাস প্রবেশে সাহায্য করে এবং উর্বরতা বৃদ্ধি করে৷ তাই জমির কেঁচোকে কোনভাবেই মারবেন না৷ আপনি চাইলে যেকোন পোকা দুরীকরনে জৈব বালাইনাশক ও ব্যবহার করতে পারেন৷ নিম পাতা সিদ্ধ করেন সেই পানি ঠান্ডা করে স্প্রে করে দিতে পারেন। বাজারে পাওয়া জৈব বালাইনাশক যেমনঃ বায়োট্রিন, ইকোম্যাক(ইস্পাহানি) ব্যবহার করতে পারেন । পোকা তাড়াতে বাগানে নিম গাছ, করলা ও রসুন চাষ করতে পারেন সব সময়৷ চার কোনায় রাখতে পারেন নিম গাছ মাঝামাঝিতে লাগাতে পারেন করলা, রসুন এছাড়া বিভিন্ন কোনায় দিতে পারেন আপনার ইচ্ছা মতো । সব সময় বাগান পরিস্কার রাখার চেষ্টা করবেন এতে ও পোকা মাকড় কম হবে ।
টবের মাটি কিভাবে পরিবর্তন করবেন?
টব বা ড্রামের মাটি পরিবর্তন করবেন? কিন্তু কিভাবে করবেন বুঝতে পারছে না? আসুন জেনে নেই উপায় । সাধারনত: টবে ফল গাছ লাগানোর এক থেকে দুই বছরের মধ্যে শিকড়ে টব ভরে যায় । ফলে ধীরে ধীরে ফলন কমে যেতে থাকে । তাই প্রতি বছর গাছের ফলন ঠিক রাখতে হলে টবের আংশিক মাটি পরিবর্তন করতে হবে ।
কিভাবে মাটি পরিবর্তন? কোন গাছগুলি পরিবর্তন করা দরকার তা শনাক্ত করুন। সেই অনুযায়ী নতুন মাটি সংগ্রহ করুন। আপনার শুধু মাটি সংগ্রহ করতে হবে না। মাটি ভালভাবে প্রস্তুত করুন। মাটির প্রস্তুতির নিয়মগুলি আগের মতোই। মাটি পরিবর্তনের কমপক্ষে 15 দিন আগে মাটি প্রস্তুত করা উচিত। শিকড়যুক্ত মাটি ড্রাম বরাবর আড়াই ইঞ্চি এবং আট ইঞ্চি গভীরতায় কাটা হয়। আপনি আপনার টব বা ড্রামের আকার অনুযায়ী মাটি কেটেছেন। পূর্বে প্রস্তুত মাটি দিয়ে স্থানটি পূরণ করুন। আরও কিছুটা জল যোগ করুন। এই বছর টবের মাটি বদলেছে। প্রতি বছর একই নিয়ম কাজ। তদতিরিক্ত, অভ্যাসটি যা আপনি নতুন ড্রাম পূরণের 6 মাস পরে করবেন ১) এক লিটার জলে আধা চা-চামচ ইউরিয়া, টিএসপি, পটাশ এবং এক চিমটি সালফার (৮০%) সার মিশ্রিত করুন বা বাজারে এনপিকেএস মিশ্রণটি শুরুতে যোগ করুন। মাসে একবার দিন। ২) 10 দিন পরে এক লিটার পানিতে এক চিমটি সালুবার বোরন এবং চিলেটেড জিঙ্ক দিয়ে স্প্রে করুন। মাসে একবার দিন আপনি অন্যান্য উপায়ে সার তৈরি করতে এবং এটি গর্ত বা অর্ধ ড্রামে প্রয়োগ করতে পারেন 1. তরল গোবর সার এবং ফসফেট মিশ্রণ: (ফুল এবং ফল গাছের জন্য) আপনি যদি খুব দ্রুত গোবর সার ব্যবহার করতে চান তবে আপনি এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করতে পারেন। গোবর হজম করতে এক বছর সময় লাগে। তবে এই পদ্ধতিটি 15 দিনের মধ্যে তরল সার হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। 10 কেজি গোবর, 2 কেজি টিএসপি, 10 লিটার জল খুব ভাল মিশ্রিত করুন এবং 15-16 দিন রেখে দিন। গ্যাস বের হওয়ার জন্য টানা ২-৩ দিন কাঁপুন। 18 দিনের পরে, 500 ঘন মিশ্রণ থেকে তরল সার + 5 লিটার জল = উদ্ভিদ সার প্রয়োগ করা হয়। প্রতিটি গাছে 100 মিলি তরল সার দেওয়া ভাল তবে খুব বেশি পরিমাণে বিষের কারণ হতে পারে।
২. তরল খাইল সার: (শাক শাক বা ফুলের জন্য) 250 গ্রাম খাইল + 5 লিটার জল ঝাঁকুন এবং 5 দিন ধরে রাখুন। তবে মিক্স করতে প্রতিদিন ঝাঁকুনি দিন। 5 দিন পরে, 500 মিলি তরল সার + 5 লিটার জল গাছের সাথে 100 মিলি অনুপাতের মধ্যে প্রয়োগ করুন। এটি গন্ধ পাবে, আপনাকে একটি মুখোশ পরতে হবে 3 | জৈব সার 40 কেজি ইউরিয়া 150 গ্রাম, টিএসপি 300 গ্রাম, পটাশ 150 গ্রাম, জিপসাম 150 গ্রাম, চ্লেটেড জিঙ্ক 10 গ্রাম, বোর্ন 10 গ্রাম প্রতি 6 মাসের ব্যবধানে বা বর্ষার আগে এবং পরে যা করে এবং 10 বছরেরও বেশি গাছের জন্য পুরানো, দ্বিগুণ পরিমাণে সার প্রয়োগ করতে হবে

Tuesday, March 23, 2021

বীজ জার্মিনেশন

 বীজ জার্মিনেশন

বীজ জার্মিনেশন।

প্রথমে বীজগুলো ৫/৬ ঘন্টা রোদে দিয়ে রাখলাম, রোদ থেকে উঠিয়ে ৩০/৪০ মিনিট ঘরের ভেতর ফেলে রাখলাম। তারপর ১ দানা পটাশিয়াম পার ম্যাংগানেট (ফার্মেসীতে পাওয়া যায়) দিয়ে ২৫/৩০/৩৫ মিনিট ভিজিয়ে রেখে বীজ শোধন করে নিলাম (ট্রাইকোডার্মা ছিল না বলে এটা দিয়ে করলাম)। তারপর হালকা গরম পানিতে সন্ধ্যা ৬ থেকে পরদিন সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ভিজিয়ে রাখলাম। তারপর পানি থেকে তুলে টিস্যুতে ঢেকে রেখে পানির ছিটা দিয়ে টিফিন বক্সে ঢাকনা লাগিয়ে রেখে দিলাম ২/৩ দিন। মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় বেশিরভাগ বীজ-ই জার্মিনেট হয়ে গেল।

ধন্যবাদ সবাইকে।

Last post

ড্রাগন ফলের পরিচয়

  উৎপত্তি ও ভৌগলিক বিস্তৃতিসহ ড্রাগন ফলের পরিচয়     " ড্রাগন ফল " বা ড্রাগন ফ্রুট অসমৃদ্ধ এবং বিশেষ রূপের ফল , য...