চোখের যত্নের টিপস
চোখের যত্নের টিপস: এই বিষয়গুলো মাথায় রাখুন যাতে আপনার শিশু বর্ষায় চোখের সংক্রমণের শিকার না হয়।
মনসুন আই কেয়ার টিপস ত্বকের চুলের সংক্রমণ ছাড়াও, বর্ষাকালে চোখের সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যায়, বিশেষ করে শিশুরা এটির প্রবণতা বেশি। এই মৌসুমে শিশুদের সংক্রমণ থেকে দূরে রাখতে চাইলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখতে হবে। আজকের আর্টিকেলে আমরা এ সম্পর্কে জানব।
বর্ষা প্রচণ্ড গরমের পরে স্বস্তি নিয়ে আসে তবে এই ঋতুটি অনেক চ্যালেঞ্জও নিয়ে আসে। চোখ শরীরের সবচেয়ে সংবেদনশীল অঙ্গগুলির মধ্যে একটি এবং বর্ষাকালে তাদের যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জলবাহিত রোগ এবং পরিবেশে আর্দ্রতা বৃদ্ধির কারণে শরীরের সবচেয়ে নাজুক অংশ চোখকে প্রভাবিত করে, তাই এই ঋতুতে চোখকে সুরক্ষিত রাখতে এই টিপসগুলি অনুসরণ করুন।
পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার জন্য আপনার চোখ স্পর্শ করার আগে সাবান এবং জল দিয়ে ভালভাবে হাত ধুয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ যাতে অসাবধানতাবশত আপনার চোখে কোনও ভাইরাস বা চোখের সংক্রমণ না ছড়ায়। ঘরের প্রতিটি কোণ পরিষ্কার রাখুন, কারণ বর্ষাকালে শিশুরা তাদের বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই কাটায় এবং এই ঋতুতে ব্যাকটেরিয়া ও ছাঁচের বৃদ্ধির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। ঘরটি শুষ্ক এবং আর্দ্রতা মুক্ত হওয়া উচিত।
সংক্রমণ প্রতিরোধ
বাচ্চাদের নোংরা হাত বা ভেজা তোয়ালে দিয়ে তাদের চোখ ঘষতে দেবেন না, কারণ এতে সংক্রমণ হতে পারে বা কর্নিয়াতে আঁচড় লেগে যেতে পারে। অভিভাবকদের উচিত তাদের বাচ্চাদের মুখ ও চোখ মোছার জন্য আলাদা পরিষ্কার তোয়ালে দেওয়া। এতে করে তারা কোনো ভাইরাসের সংস্পর্শে আসা এড়াবে। শিশুদের শেখানো উচিত তাদের ব্যক্তিগত জিনিস যেমন রুমাল এবং তোয়ালে অন্যদের সাথে শেয়ার না করা কারণ এটি সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
চোখের এলার্জি প্রতিরোধ
যে দিনগুলিতে প্রবল বৃষ্টি হয় বা প্রচণ্ড বাতাস থাকে, সেই দিনগুলিতে শিশুদের ধুলো কণা বা পরাগের সংস্পর্শে আসতে না দেওয়ার জন্য জানালা এবং দরজা বন্ধ রাখতে হবে। শিশুদেরকে পরিষ্কার পানি দিয়ে চোখ ধোয়ার নির্দেশ দিতে হবে এবং চোখে কোনো জ্বালাপোড়া বা কোনো ধরনের সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শুধুমাত্র চোখের ড্রপ ব্যবহার করতে হবে। বাচ্চারা বাইরে খেলার সময় বাবা-মায়ের জন্য নজর রাখা কঠিন। তাদের খেলার সময় সীমিত করা উচিত যাতে তারা কোনো ক্ষতিকারক সংক্রমণ থেকে রক্ষা পায় যাতে করে কোনো অ্যালার্জি থেকে তাদের রক্ষা করা যায়।
জলবাহিত রোগ প্রতিরোধ
বর্ষাকালে সর্বত্র জলাবদ্ধতা দেখা যায়। আপনার নিশ্চিত করা উচিত যে শিশুরা এই ধরনের জলাবদ্ধতার আশেপাশে খেলা না করে কারণ এটি ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের প্রজনন ক্ষেত্র যা তাদের চোখের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। যদি শিশু সাঁতার পছন্দ করে, তবে নিশ্চিত করুন যে তারা জলরোধী গগলস ব্যবহার করছে কারণ পানিতে ক্লোরিন বা অন্যান্য রাসায়নিক রয়েছে যা চোখের ক্ষতি করতে পারে। বাচ্চাদের সাঁতারের সময় কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করা উচিত নয় কারণ এটি সংক্রমণের কারণ হতে পারে।
স্বাস্থ্যকর চোখের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্য
পুষ্টির সাহায্যে চোখের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করার জন্য একটি সুষম খাদ্য খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ যাতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফল, শাকসবজি এবং ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার যেমন গাজর, পালং শাক এবং মিষ্টি আলু। এটি নিশ্চিত করা উচিত যে শিশুরা প্রচুর পরিমাণে জল পান করে এবং সারা দিন হাইড্রেটেড থাকে কারণ এটি সামগ্রিক চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে।
নিয়মিত চোখ পরীক্ষা
চোখের সঠিক যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এর জন্য নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করা জরুরি। শিশুর চোখে কোনো জ্বালাপোড়া বা কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
একজন অভিভাবক হিসেবে শিশুর সার্বিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি তার চোখের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। উপরের পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করলে চোখের সংক্রমণ, অ্যালার্জি এবং দৃষ্টি সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস করতে পারে। চোখকে যেকোনো সমস্যা থেকে রক্ষা করার জন্য শিশুদের ভালো স্বাস্থ্যবিধি অভ্যাস শিখতে উৎসাহিত করা উচিত।
নিয়মিতি চোখের যত্ন নিতে আরো কিছু টিপস
1. প্রতিদিন কমপক্ষে 8/10 গ্লাস পানি পান করুন।
2. চোখের নিচে কালি হলে আলু বা শসার টুকরো চোখের ওপর দিয়ে চোখ বন্ধ করে ১০ মিনিট বিশ্রাম নিন।
3. বেশি করে সবুজ শাকসবজি খান। খাবারের সাথে সালাদ খান।
4. বাইরে গিয়ে পরিষ্কার পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলুন।
5. ধূমপান এড়িয়ে চলুন।

No comments:
Post a Comment
Please do not enter any spam link in the comment box.